ইসলামে জ্ঞানার্জনের গুরুত্ব ও ফজিলত

ভূমিকাঃ

জ্ঞান শব্দের আরবি হচ্ছে– ইলম। আর ইংরেজি হলো knowledge আরবিতে বলা হয়– জ্ঞান হলো আলো আর অজ্ঞতা হলো অন্ধকার। ইংরেজিতে বলা হয় knowledge is power জ্ঞানই শক্তি। মানুষ পৃথিবীতে আল্লাহ তায়ালার প্রতিনিধি হিসেবে কিভাবে তার জীবন পরিচালনা করবে তা তিনি নবী-রসুলদের মাধ্যমে শিক্ষা দিয়েছেন। জাগতিক জীবনের সকল বিষয় এবং আল্লাহর ইবাদাত সঠিকভাবে পালনের জন্য জ্ঞানার্জন অতীব জরুরী। অন্ধকার রাত্রিতে নিরাপদ পথচলার জন্য যেমনি আলো প্রয়োজন, ঠিক তেমনি শিরক, বিদআত ও কুফরীর অন্ধকারের মধ্যে হিদায়াতের রাস্তা খুঁজে পাওয়ার লক্ষে মুমিন বান্দার জন্য জ্ঞানের আলো একান্ত প্রয়োজন। এছাড়া তাওহীদ রিসালাত-আখিরাতের পরিচিতি লাভ, সর্বোপরি যাবতীয় ইবাদত-বন্দেগী কবুল উপযোগী করে সম্পাদন করার জন্য দ্বীনি জ্ঞানের কোন বিকল্প নেই।

জ্ঞানের পরিচয়ঃ

বিভিন্ন ভাষার অভিধানে জ্ঞানের সংঙ্গা দেয়া হয়েছে এভাবে– কোন বিষয়ে তাত্ত্বিক বা ব্যবহারিক উপায়ে অভিজ্ঞতা বা শিক্ষার মাধ্যমে অর্জিত তথ্য বা দক্ষতা। অভিজ্ঞতা বা অধ্যয়নের মাধ্যমে কোন বিষয়ে বোধগম্যতা বা তথ্য অবগত হওয়া। হয়তবা তা একজন ব্যক্তির মাধ্যমে নতুবা সাধারণভাবে লোকদের দ্বারা অবগত হওয়া। আরবিতে ইলম বা জ্ঞানের শাব্দিক অর্থ হলো- অবগত হওয়া, নিশ্চিত হওয়া। এ প্রকৃতপক্ষে কোন কিছুর উপলব্ধি। পরিভাষায় কতিপয় ইসলামী স্কলার বলেন- জ্ঞান হলো কোন কিছু সম্পর্কে অবগত হওয়া এবং তা অজ্ঞতার বিপরীত। আবার কেউ কেউ বলেন: জ্ঞান জানার চেয়ে পরিক্ষার। এখানে জ্ঞান দ্বারা বুঝানো হচেছ শরীয় জ্ঞান। আর এটা এমন এক জ্ঞান যা আল্লাহ তাআলা তাঁর রসূলের উপর সুস্পষ্ট বর্ণনা ও নির্দেশনা সহকারে অবতীর্ন করেছেন।     (আন নাযায়ের, শরহে আল আশবাহ ওয়ান  নাযায়ের, প্রথম পরিচ্ছেদ)

ইসলামে জ্ঞানার্জনের গুরুত্ব ও ফজিলতঃ

ক। জ্ঞান অর্জন করা ফরয।

এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেন: পাঠ করুন, আপনার পালনকর্তার নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন। যিনি সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত থেকে। পাঠ করুন, আপনার পালনকর্তা মহা দয়ালু, যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন, শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না।  (সূরা আলাক, আয়াতঃ ১-৫)

এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন: আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিমের উপর ফরয।   (ইবনে মাজাহ- ২২৪)

খ। জ্ঞানী ব্যক্তি ও নির্বোধ ব্যক্তি কখনো সমান নয়।

মহান আল্লাহ তা‘আলা বলেন: বলুন, যারা জানে আর যারা জানে না, তারা কি সমান হতে পারে? চিন্তা-ভাবনা কেবল তারাই করে যারা জ্ঞানবান।    (সূরা আয-যুমার, আয়াত- ৯)

গ। পৃথিবীর সমস্ত জ্ঞানই আল্লাহ প্রদত্ত ।

আল্লাহ তা‘য়ালা বলেন: আর তিনি আদম (আঃ) কে যাবতীয় নাম শিক্ষা দিলেন। তারপর সেগুলো ফিরিশতাদের সামনে উপস্থাপন করে বললেন, এগুলোর নাম আমাকে বলে দাও, যদি তোমরা সত্যবাদী হও। তারা বলল, আপনি পবিত্র মহান! আপনি আমাদের যা শিক্ষা দিয়েছেন তা ছাড়া আমাদের কোন জ্ঞানই নাই। নিশ্চয় আপনি সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। (সূরা আল-বাকারাহ, আয়াতt ৩১-৩২)

ঘ। জ্ঞান মানুষের অন্তরের চোখ খুলে দেয়।  

আল্লাহ তা‘য়ালা বলেন, আপনি বলুন: অন্ধ ও চক্ষুষ্মান কি সমান হতে পারে? তোমরা কি চিন্তা কর না?   (সূরা আনআম, আয়াত- ৫০)

ঙ। জ্ঞান হচ্ছে আলো আর অজ্ঞতা হলো অন্ধকার।

আল্লাহ তা‘য়ালা বলেন t বলুন: অন্ধ ও চক্ষুষ্মান কি সমান হয়? অথবা আলো ও অন্ধকার কি সমান হয়?   (সূরা আর রা‘দ, আয়াত- ১৬)

চ। কোন কাজ করার পূর্বে সে সম্পর্কিত জ্ঞানার্জন আগে জরুরী।

যেমনঃ আরবিতে বলা হয়, আগে জ্ঞান পরে কাজ ৷

ছ। সৃষ্টির বৈচিত্র্য ও সৃষ্টি তত্ত্বের সাথে জ্ঞানকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।

প্রকৃতিবিজ্ঞানসহ জ্ঞানের সকল শাখাই ইসলামের দৃষ্টিতে প্রশংসনীয় জ্ঞান। সকল বিষয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিশেষজ্ঞ তৈরী করা মুসলিম সমাজের জন্য ফরজে কিফায়া। আল্লাহ তা‘য়ালা বলেন: আপনি কি দেখেন না, আল্লাহ আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করেন। এরপর তা দিয়ে আমরা বিচিত্র বর্ণের ফল-মূল উদগত করি। আর পাহাড়ের মধ্যে আছে বিচিত্র বর্ণের গিরিপথ সাদা, লাল এবং নিকষ কালো। এমনিভাবে বিভিন্ন  বর্ণের মানুষ, জীবজন্ত ও চতুষ্পদ জন্তু আছে। আল্লাহর জ্ঞানী বান্দারাই কেবল তাকে ভয় করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রবল শক্তিশালী, ক্ষমাশীল।     (সূরা আল-ফাতির, আয়াতt ২৭-২৮)

জ। নির্ভুল জ্ঞান হচ্ছে ওহী ভিত্তিক জ্ঞান। 

জ্ঞানের উৎস সাধারনত তিনটি। যথা :

(1) আকল বা বিবেক-বুদ্ধি লব্ধ জ্ঞান।

(2) ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য জ্ঞান।

(3) ওহী ভিত্তিক জ্ঞান।

এগুলোর মধ্যে একমাত্র ওহী ভিত্তিক জ্ঞানই সবসময় সঠিক তথ্য প্রদান করে থাকে। অন্যগুলো কখনো সঠিক কখনো ভুল তথ্য দিয়ে থাকে।

জ্ঞানের প্রকারভেদঃ

জ্ঞান সাধারণত দুই ধরনের। যথা:

ক। দ্বীনি জ্ঞান।

খ। জাগতিক জ্ঞান।

দ্বীনি জ্ঞান অর্জনের বিধানঃ

দ্বীনি জ্ঞানার্জনের বিধান দুটি। যথা:

ক। ফরযে আইন।

খ। ফরযে কিফায়া।

ফরযে আইনঃ

সকল কর্মের সফলতা ও কবুলিয়্যত নির্ভর করে সে বিষয়ে বিশুদ্ধ জ্ঞানের উপর। এ জন্য দ্বীনের প্রয়োজনীয় জ্ঞানার্জন করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরয বা অপরিহার্য। এ প্রকারের জ্ঞানের ব্যাপারেই হাদীসে এসেছে,

طلب العِلْمِ فَرِيضَةً عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ.

প্রত্যেক মুসলিমের উপর ইলম তথা জ্ঞানার্জন করা ফরয।  (ইবনে মাজাহ- ২২৪)

ঈমান-আকীদা, ইবাদাত-বন্দেগী, মুআমালাত-মু‘আশারাতসহ ইসলামের বড় বড় সকল অধ্যায়ের অনেক বিষয়ই এই প্রকারের জ্ঞানের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত, যা সকলের শিক্ষা করা কর্তব্য। আর অধীনস্তদেরকে শিক্ষা দেওয়াও জরুরি। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণ সম্ভব না হলে ব্যক্তিগত পড়া-লেখা ও শোনার মাধ্যমে এ ফরজ আদায় করতে হবে।

ফরযে কিফায়াঃ

যা স্বতন্ত্রভাবে প্রত্যেক ব্যক্তির উপর ফরয না হলেও সামষ্টিকভাবে সকলের উপর ফরয। অর্থাৎ সমাজের কিছু ব্যক্তি তা অর্জন করলে সকলের পক্ষথেকে তা আদায় হয়ে যাবে। আর কেউই তা অর্জন না করলে সকলেই দায়ী থাকবে। এ প্রকারের ইলম অনেক বিস্তৃত। এককথায় দ্বীনের সকল বিষয়ের গভীর জ্ঞান। যেহেতু এটি সামষ্টিকভাবে সকলের উপরই ফরয তাই সকলকেই এ ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা‘আলা বলেন: মুমিনদের সকলের একসঙ্গে অভিযানে বের হওয়া সঙ্গত নয়, তাদের প্রত্যেক দলের এক অংশ বহির্গত হয় না কেন, যাতে তারা দ্বীন সম্বন্ধে জ্ঞানানুশীলন করতে পারে এবং তাদের সম্প্রদায়কে সতর্ক করতে পারে, যখন তারা তাদের নিকট ফিরে আসবে। যাতে তারা সতর্ক হয়।   (সূরা আত-তাওবা, আয়াত- ১২২)

জাগতিক জ্ঞানার্জনের বিধানঃ

জাগতিক জ্ঞানার্জনের বিধান দুটি। যথা:

ক।  ফরয।

খ।  মুস্তাহাব।

দুনিয়াবী কার্যক্রম সুন্দর ও সুচারুরূপে পরিচালনা করার জন্য সকল বৈধ পেশা সংক্রান্ত জ্ঞানার্জন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জন্য ফরয। অন্যদের জন্য তা মুস্তাহাব। যেমন কেউ যদি ডাক্তারী পেশা গ্রহণ করে সে সংক্রান্ত সঠিক জ্ঞান তার জন্য আবশ্যক। কারণ সঠিক জ্ঞানার্জনের অভাবে সে মানুষকে সঠিক চিকিৎসা দিতে পারবে না। অন্য পেশার কেউ যদি চিকিৎসা সংক্রান্ত কোন জ্ঞানার্জন করে তা তার নিজের ও অন্যের কিছু উপকার করতে পারে এজন্য তা সাওয়াবের কাজ হবে।

কুরআন-সুন্নাহর জ্ঞানার্জনের গুরুত্বঃ

ইলম বা জ্ঞান ছাড়া ব্যক্তি জীবন, পারিবারিক জীবন, সামাজিক জীবন, রাষ্ট্রীয় জীবন- কোনো ক্ষেত্রেই পরিপূর্ণভাবে ইসলামী বিধান পালন করা সম্ভব নয়। তাবেঈ উমর ইবনে আব্দুল আযীয (রহঃ) বলেন- যে ব্যক্তি ইলম ছাড়া আমল করবে সে সঠিকভাবে যতটুকু না করবে, বরবাদ করবে তার চেয়ে বেশি।   (তারীখে তাবারী– ৬/৫৭২)

ক। পবিত্র কুরআন শিক্ষা দেওয়ার জন্যই আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কে পাঠিয়েছেন।

মহান আল্লাহ তা‘আলা বলেন:

هُوَ الَّذِي بَعَثَ فِي الْأُمِّيِّنَ رَسُوْلًا مِنْهُمْ يَتْلُوْا عَلَيْهِمْ أَيْتِهِ وَ يُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَبَ وَالْحِكْمَةِ.

তিনিই উম্মিদের মধ্যে একজন রাসূলুল্লাহ পাঠিয়েছেন তাদের মধ্য হতে, যে তাদের সামনে তাঁর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করে; তাদের পবিত্র করে এবং শিক্ষা দেয় কিতাব ও হিকমত; ইতিপূর্বে তারা ছিল ঘোর বিভ্রান্তিতে নিমজ্জিত।    (সূরা আল-জুমুআহ, আয়াত- ২)

মূসা ও খিযির (আঃ) এর ঘটনা একজন ইলম অন্বেষণকারীর জন্য শিক্ষণীয়। সূরা আল-কাহাফে আল্লাহ তাআলা মূসা (আঃ) ও খিযির (আঃ)-এর ঘটনা উল্লেখ করে আমাদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন যে, একজন অনেক উঁচু মর্যাদার নবীও ইলম ও হিকমত শিক্ষার জন্য অনেক কষ্ট স্বীকার করেছেন এবং আরেকজনের পিছে পিছে ঘুরেছেন। কুরআনে বর্ণিত হয়েছে, মূসা (আঃ) খিযির (আঃ) কে বলেন,  সআমি কি আপনার অনুসরণ করব এই মর্মে যে, আপনি আমাকে হিদায়েতের বাণী শেখাবেন, যা আপনাকে শেখানো হয়েছে।     (সূরা আল-কাহাফ, আয়াত- ৬৬)

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কে ইলম বৃদ্ধির জন্য দুআ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পবিত্র কুরআনে এসেছে, “তুমি বলো হে আমার প্রভু, আমার ইলম বৃদ্ধি করে দিন”।   (সূরা ত্ব-হা, আয়াত- ১১৪)

খ। দ্বীনি ইলমের মজলিস উত্তম মজলিস। 

হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: রাসূলুল্লাহ (সাঃ) একবার তার মসজিদে দু‘টি মজলিসের পার্শ্ব দিয়ে অতিক্রম করলেন এক বৈঠকের লোকেরা আল্লাহ তায়ালাকে ডাকে ও তার প্রতি আকৃষ্ট হয় আর দ্বিতীয় বৈঠকের লোকেরা ইলম ও গভীর জ্ঞান অন্বেষণ করছে এবং তা অজ্ঞদের শিক্ষা দিচ্ছে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন দু‘টি মজলিসই উত্তম তবে তাদের একটি অপরটির অপেক্ষা ভাল। এক বৈঠকের লোকেরা আল্লাহ তায়ালাকে ডাকে ও তার প্রতি আকৃষ্ট হয়। আল্লাহ ইচ্ছা করলে তাদেরকে তা দিতেও পারেন অথবা ইচ্ছা করলে নাও দিতে পারেন। আর দ্বিতীয় বৈঠকের লোকেরা ইলম ও গভীর জ্ঞান অন্বেষণ করছে এবং তা অজ্ঞদের শিক্ষা দিচ্ছে, তারাই হল উত্তম। আমি তো শিক্ষক হিসেবে প্রেরিত হয়েছি অতঃপর তিনি তাদের দলেই বসে পড়লেন।   (মিশকাত- ২৫৭)

ইসলামে জ্ঞানার্জনের ফজিলতঃ

ক। আলেম তথা জ্ঞানীগণ যামানার শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি। 

আলেমগণ তাদের নিজ নিজ যামানার সাধারণ আবেদগণের উপর শ্রেষ্ঠ মর্যাদার অধিকারী। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা‘য়ালা বলেন: তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদেরকে ইলম দান করা হয়েছে আল্লাহ তাআলা তাদেরকে মর্যাদায় উন্নত করবেন।    (সূরা আল-মুজাদালাহ, আয়াত- ১১) এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, আবেদগণের উপর আলেমগণের সম্মান এমন যেমন তোমাদের উপর আমার সম্মান।   (তিরমিযি- ২৯০১) আল্লাহ পাক যার কল্যাণ চান তাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান করেন।  (বুখারি- ৭১; মুসলিম- ১০৩৭)

খ। হিংসা নিষিদ্ধ হওয়া সত্বেও দুই ব্যক্তিকে হিংসা করা যাবে। 

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন: দুই ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কারো ব্যাপারেই হিংসা হতে পারে না। এক. আল্লাহ পাক যাকে সম্পদ দান করেছেন আর সে ন্যায়ের পথে খরচ করতে থাকে। দুই. যাকে দ্বীনী জ্ঞান দান করেছেন আর সে তা দিয়ে বিচার করে এবং তা মানুষকে শেখায়।   (বুখারি- ৭৩; মুসলিম- ৮১৬)

গ। আলেম বা জ্ঞানীগণ সুপারিশের অধিকার অর্জন করবেন।

নবীগণ আখিরাতে তাঁর উম্মতদের জন্য সুপারিশ করবেন, আলেমগণও আল্লাহ তায়ালার অনুমতিক্রমে সুপারিশের প্রাধিকার প্রাপ্ত হবেন। এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন: তিন শ্রেণীর লোক কিয়ামতের দিন সুপারিশ করবে, নবীগণ, আলেমগণ ও শহীদগণ।  (ইবন মাজাহ- ৪৩১৩)

ঘ। ইলম তথা জ্ঞান অন্বেষণে জিহাদের সওয়াব পাওয়া যাবে।  

এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, যেই ব্যক্তি আমার মসজিদে আসল শুধু একারণে যে, সে কোনো কল্যাণের বাণী শিখবে অথবা শেখাবে সেই ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারীর ন্যায়।   (ইবনে মাজাহ- ২২৭ ) অন্য হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন: যে ব্যক্তি ইলম অন্বেষণের জন্য বের হল সে আল্লাহর রাস্তায় বের হল।   (তিরিমিযী- ২৬৪৭)

ঙ। কুরআনের জ্ঞানার্জন ও শিক্ষাদান সর্বশ্রেষ্ঠ কাজ।

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন: তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ঐ ব্যক্তি, যে কুরআন মাজীদ শিক্ষা করে এবং শিক্ষা দেয়।  (বুখারি- ৫০২৭)

চ। হাদিসের জ্ঞানার্জন ও শিক্ষাদানকারীর চেহারা আল্লাহ উজ্জ্বল করে দিবেন।

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন: আল্লাহ তা‘য়ালা সে ব্যক্তির চেহারাকে উজ্জ্বলতা দান করেন যে আমাদের থেকে হাদীস শ্রবণ করে এবং সংরক্ষণ করে এমনকি তা অন্যের নিকট পৌঁছে দেয়।  (আবু দাউদ- ৩৬৬২, ইলম অধ্যায়)

ছ। জ্ঞানীগণ নবীগণের উত্তরাধিকারী। 

এ প্রসঙ্গে হাদিসে এসেছে: আবু দারদা (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কে বলতে শুনেছি, ইলম লাভের উদ্দেশ্যে যে ব্যক্তি পথ চলে আল্লাহ তা‘আলা এর মাধ্যমে তাকে জান্নাতে পৌছে দেন এবং ফেরেশতাগণ ইলম অন্বেষণকারীর সন্তুষ্টির জন্য নিজেদের ডানা বিছিয়ে দেন। অতঃপর আসমান-যমীনের সকল প্রাণী আলিমের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন, এমন কি পানির মাছসমূহও। নক্ষত্ররাজির উপর পূর্ণিমার চাঁদের যে প্রাধান্য, ঠিক তেমনি আবিদগণের উপর আলিমের প্রাধান্য। অবশ্যই আলিমগণ নবীগণের ওয়ারিস। আর নবীগণ উত্তরাধিকার হিসাবে দীনার বা দিরহাম রেখে যান নি বরং তাঁরা রেখে গেছেন ইলমকে। সুতরাং যে ব্যক্তি ইলম লাভ করেছে সে পূর্ণ অংশ লাভ করবে।    (তিরমিযী- ২৬৮২)

জ। জ্ঞানার্জনকারীগণের আলোচনা হয় মহান আল্লাহর দরবারে।

হাদিসে এসেছে: আবু হোরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন: যে লোক জ্ঞানার্জনের জন্য রাস্তায় বের হয়, আল্লাহ এর বিনিময়ে জান্নাতের পথ সহজ করে দেন। যখন কোন সম্প্রদায় আল্লাহর ঘরসমূহের কোন একটি ঘরে একত্রিত হয়ে আল্লাহর কিতাব পাঠ করে এবং একে অপরের সাথে মিলে কুরআন অধ্যয়নে নিয়োজিত থাকে তখন তাদের উপর শান্তিধারা অবতীর্ণ হয়। আল্লাহর রহমত তাদের আচ্ছন্ন করে ফেলে এবং ফেরেশতাগণ তাদেরকে পরিবেষ্টন করে রাখেন। আর আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নিকটবর্তী ফেরেশতাদের সাথে তাদের আলোচনা করেন। আর যে লোককে আমলে পিছনে সরিয়ে দিবে তার বংশ মর্যাদা তাকে অগ্রসর করে দিবে না।      (মুসলিম- ৬৭৪৬)

ঝ। ইলম অর্জনের সওয়াব মৃত্যুর পরও জারি থাকবে।

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন: যখন মানুষ মারা যায় তার সকল আমলের রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। শুধু তিনটি রাস্তা খোলা থাকে। এক. সদকায়ে জারিয়া। দুই. এমন ইলম, যা থেকে (মানুষ) উপকৃত হয়। তিন. নেক সন্তান, যে তার জন্য দুআ করে।      (মুসলিম- ১৬৩১)

অন্য হাদিসে এসেছে: সহল ইবনে মুয়ায ইবনে আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি জ্ঞানের কথা শিক্ষা দেয়, সে তদানুসারে কর্ম সম্পাদনকারীর সমান পুরষ্কার পাবে, এতে কর্ম সম্পাদনকারীর পুরষ্কারে কোনরূপ ঘাটতি হবে না।    (ইবনে মাজাহ- ২৪০)

ঞ। নবীর সুপারিশ নসীব হবে।

এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন : আমার উম্মতের মধ্যে যে ব্যক্তি তার দ্বীন সম্পর্কিত চল্লিশটি হাদীস মুখস্ত করবে আল্লাহ তায়ালা কিয়ামতের দিন তাকে ফকীহ হিসেবে উত্থিত করবেন আর কিয়ামতের দিন আমি তার জন্য সাক্ষী ও সুপারিশকারী হব। (বায়হাকী- ১৭২৫) 

ট। নবীগণের কাছাকাছি মর্যাদা লাভ।

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন: যার নিকট মৃত্যু উপস্থিত হল এমন অবস্থায় যখন সে ইসলাম জিন্দা করার উদ্দেশ্যে এলেম অর্জনে নিয়োজিত ছিল তাহলে জান্নাতে তার ও নবীগণের (আঃ) মধ্যে মর্যাদার দিক থেকে মাত্র এক স্তর ব্যবধান থাকবে।  (ফায়জুল কালাম- ২০৪, দারেমী)

ঠ। আলেমগণ শয়তানের নিকট অত্যাধিক শক্তিশালী।

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন: ইসলাম সম্পর্কে গভীর জ্ঞানী একজন ব্যক্তি শয়তানের নিকট এক হাজার ইবাদতকারীর চেয়েও অধিক শক্তিশালী।    (ইবনে মাজাহ- ২২৭, ভূমিকা অধ্যায়)

ড। দ্বীনি এলেম অর্জনের তৌফিক লাভ করা আল্লাহর রহমতের আলামত। 

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন: আল্লাহ তা‘য়ালা যার মঙ্গল চান তাকে তিনি দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান করেন।   (তিরমিযি- ২৮৫৭, ইলম অধ্যায়)

ঢ। জ্ঞানার্জনকারীদের রিযিকের দ্বায়িত্ব আল্লাহর হাতে।

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন: যে ব্যক্তি জ্ঞান অর্জন করে, আল্লাহ তা‘য়ালা তার রিযিকের জিম্মাদার হয়ে যান।   (আনওয়ারুল হাদীস- ৩৫, কানযুল উম্মাল)

ণ। জান্নাতের রাস্তা সহজ হয়ে যায়।

 রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন: যে ব্যক্তি এলেম অর্জনের জন্য পথ চলল, আল্লাহ তা‘য়ালা তার জন্য জান্নাতের রাস্তাকে সহজ করে দিবেন।  (তিরমিযি- ২৮৫৮)

ত। পূর্ববর্তী গুনাহসমূহের কাফ্ফারা।

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন: যে ব্যক্তি জ্ঞান অর্জন করে, এ কাজটি তার জন্য পূর্ববর্তী গুনাহসমূহের কাফ্ফারা হয়ে যায়। (তিরমিযি- ২৮৬০)

থ। সারা রাত্রি ইবাদাতের সমতুল্য।

হাদিসে এসেছে: রাত্রিবেলা কিছু সময় জ্ঞান অধ্যয়ন করা সারারাত্রি ইবাদতে অতিবাহিত করার চেয়েও উত্তম।  (ফায়জুল কালাম- ১৯০, দারেমী)

দ। এক হাজার রাকাত নামাজ অপেক্ষা উত্তম।

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন: সকাল বেলা ইলমের একটি অধ্যায় শিক্ষা করা, চাই তার আমলের প্রচলন থাক (যেমন-অযূ, সালাত ইত্যাদি) অথবা না থাক (অর্থাৎ তার আমলের অবকাশ না থাক) তা এক হাজার রাকাত নফল সালাত পড়া থেকে উত্তম। (ফায়জুল কালাম- ১৯৭, ইবনে মাজাহ- ২২৪)

দ্বীনী জ্ঞানার্জনকারীদের করণীয়ঃ

দ্বীনী ইলম শিক্ষা করা যেহেতু অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল তাই এর আদব-কায়দার প্রতি লক্ষ্য রাখাও অতি গুরুত্বপূর্ণ।

ক। বিশুদ্ধ নিয়তে জ্ঞানার্জন করা।

আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ইলম অন্বেষণকারীর জন্য খুবই জরুরি বিষয়। এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন: আল্লাহর সন্তুষ্টির যে ইলমের দ্বারা অন্বেষণ করা যায় এমন ইলম (দ্বীনী ইলম) যে ব্যক্তি পার্থিব কোনো উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য শিক্ষা করবে কিয়ামতের দিন সে জান্নাতের ঘ্রাণও পাবে না।    (মুসনাদে আহমাদ-৮৪৫৭; আবু দাউদ- ৩৬৬৪)

তোমরা এই উদ্দেশ্যে ইলম শিক্ষা করো না যে, এর মাধ্যমে আলেমদের সাথে গর্ব করবে বা মূর্খদের সাথে বিবাদে লিপ্ত হবে। কিংবা মজলিসের অধিকর্তা হবে। যে এমন করবে তার জন্য রয়েছে জাহান্নাম, তার জন্য রয়েছে জাহান্নাম।   (সহিহ ইবনে হিব্বান- ৭৭)

খ। ইলম গোপন না করা।

দ্বীনি ইলমকে যারা নিজের মধ্যে গোপন রাখে তাদের ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন: যার কাছে এমন কোন বিষয়ে প্রশ্ন করা (জানতে চাওয়া) হল, যে বিষয়ে তার জ্ঞান রয়েছে, তা সত্ত্বেও সে তা গোপন করল, কিয়ামতের দিন তাকে আগুনের শিকল (লাগাম) পরানো হবে।   (তিরমিযি- ২৮৬১) তোমরা আমার বাণী (আল্লাহর বান্দাদের মাঝে) পৌঁছে দাও বা প্রচার কর, যদিও একটি আয়াত হয়।  (তিরমিযি- ২৮৮১)

গ। অন্যকে শিক্ষা দেয়ার পূর্বে নিজে আমল করা।

মহান আল্লাহ তা‘য়ালা বলেন: মুমিনগণ! তোমরা যা কর না, তা কেন বল? তোমরা যা কর না, তা বলা আল্লাহর কাছে খুবই অসন্তোষজনক।     (সূরা আস-সফ, আয়াত: ২-৩)

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন: আমি মি‘রাজের রাত্রে একদল লোকের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম, যাদের ঠোঁট আগুনের কাঁচি দিয়ে কাটা হচ্ছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে জিবরাঈল! এরা কারা? তিনি বললেন, এরা আপনার উম্মতের বক্তা ও ওয়ায়েজগণ, যারা এমন কথা বয়ান করত, যার উপর নিজেরা আমল করত না। কুরআন তেলোয়াত করত কিন্তু আমল করত না।   (বায়হাকি- ১৭৭৩)

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন: আমি মি‘রাজের রাত্রে একদল লোকের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম, যাদের ঠোঁট আগুনের কাঁচি দিয়ে কাটা হচ্ছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে জিবরাঈল! এরা কারা? তিনি বললেন, এরা আপনার উম্মতের বক্তা ও ওয়ায়েজগণ, যারা এমন কথা বয়ান করত, যার উপর নিজেরা আমল করত না। কুরআন তেলোয়াত করত কিন্তু আমল করত না।    (বায়হাকি- ১৭৭৩)

তাদের মনগড়া ব্যাখ্যায় যারা আমল করবে তাদের পাপের বোঝাও তাদের বহন করতে হবে। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন : যাকে জানা-শুনা ব্যতীত ফতোয়া দেয়া হল (এবং সে সেই ভুল ফতোয়ার উপরই আমল করল) তাহলে এ অন্যায় কাজের পাপ ফতোয়াদাতার উপরই বর্তাবে। (আবু দাউদ- ৩৬৫৯ ) যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাবের উপর মনগড়া কথা বলল, সে যদি সত্যও বলে তাহলেও সে অপরাধ করল।  (আবু দাউদ- ৩৬৫৪ )

ঙ। অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করা থেকে বিরত থাকা।

এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন: এবং নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা তোমাদের জন্য অপছন্দ করেন অর্থহীন ও অপ্রয়োজনীয় কথা বলা, বেশি পরিমাণে প্রশ্ন করা এবং সম্পদ বিনষ্ট করা। (বুখারি- ২৪৪৭) আমি তোমাদের যে অবস্থায় রেখেছি আমাকে সে অবস্থায় থাকতে দাও। যখন আমি তোমাদের নিকট কোন বিষয়ে আলোচনা করব তোমরা তা আমার থেকে গ্রহণ কর। তোমাদের পূর্বে যারা ছিল তারা অধিক প্রশ্ন ও নবীগণের সাথে মতবিরোধের কারণেই ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে।   (তিরমিযি- ২৮৯৫)

ছ। কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে জ্ঞানার্জন করা।

আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) এ প্রসঙ্গে বলেন: তোমাদের কেউই আলেম হয়ে জন্মলাভ করে না। ইলম তো হাসিল হয় শিক্ষা করার মাধ্যমে। (বায়হাকী ১/২৬৭) ইবনে আব্বাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করা হল, আপনার এত বিপুল ইলম কীভাবে অর্জিত হয়েছে? তিনি উত্তর দিলেন অধিক জিজ্ঞাসাকারী যবান ও সজাগ হৃদয়ের মাধ্যমে।  (ফাযাইলুস সাহাবাহ, আহমাদ– ২/৯৭০)

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, দুই লোভী এমন যে, তারা কখনো পরিতৃপ্ত হতে পারে না, ইলম-লোভী, আর দুনিয়ালোভী।  (মুসতাদরাকে হাকেম- ২১৩: শুআবুল ইমান, বায়হাকী- ৯৭৯৮)

জ। লজ্জা ও অহংকার পরিহার করা।

বিখ্যাত তাবেঈ মুজাহিদ (রাহঃ) বলেন: অনর্থক লজ্জাকারী ও অহংকারী ইলম থেকে বঞ্চিত হয়।  (সহিহ বুখারি- ১/৬০)

লজ্জা অনেক প্রশংসনীয় একটি গুণ। তবে অনর্থক লজ্জা ভালো নয়। অনেকের ইলম শিক্ষা করার ইচ্ছা থাকে, কিন্তু লজ্জার কারণে শিখতে পারে না। আয়েশা (রাঃ) আনসারী নারীদের প্রশংসায় বলেন: আনসারী নারীরা কতই না উত্তম! দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন করার ক্ষেত্রে লজ্জা তাদের জন্য বাধ্য হয় না।      (সহিহ বুখারি ১/৬০) 

ঝ। ইলমের ধারক-বাহকগণকে সম্মান করা।

হাসান বসরী (রাহঃ) বলেন, আবুদ্দারদা (রাঃ) ও ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলেন: তুমি আলেম হও। নয়তো আলেমের ছাত্র হও। নয়তো আলেমকে মহব্বতকারী হও। নয়তো আলেমের অনুসারী হও। পঞ্চম ব্যক্তি হয়ো না। তাহলে তোমার ধ্বংস অনিবার্য। বর্ণনাকারী হাসান বসরী (রাহঃ) কে জিজ্ঞাসা করা হল, পঞ্চম ব্যক্তি কে? তিনি বললেন, পঞ্চম ব্যক্তি হচ্ছে, বেদআতি। (বায়হাকী-৩৮১)

ঞ। বাল্যকাল থেকেই ধর্মীয় জ্ঞানার্জন করা।

শিশুদেরকে শৈশবকাল থেকেই অন্যান্য বৈষয়িক শিক্ষার পাশাপশি ধর্মীয় শিক্ষা দানের ব্যপারেও সমান যত্নবান হওয়া অবিভাবকদের অন্যতম কর্তব্য। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি ছোটবেলায় শিক্ষা অর্জন করে, তার এ কাজটা হয় পাথরে কোন কিছু খোদাই কারার মতো। আর যে ব্যক্তি বয়স্ক হয়ে শিক্ষা অর্জন করে সে যেন পানির মধ্যে কিছু লিখে যায়।  (আনওয়ারুল হাদিস-৩৪, কানহুল উম্মাল) 

ট। আদর্শ শিক্ষকের নিকট থেকে জ্ঞানার্জন করা ।

মহানবী (সাঃ) বলেছেন, এই (অহির) জ্ঞানই হল ধর্ম, অতএব তোমাদের ধর্ম তোমরা কোন শ্রেণীর লোকদের নিকট থেকে গ্রহণ করছ তা লক্ষ্য কর।    (ফায়জুল কালাম-২২৬, মুসলিম)

ঠ। ইলম অর্জনের সাথে আমল কার্যকর রাখা।

হাদিসে এসেছে: ওমর বিন খাত্তাব (রাঃ) একদা কা‘ব (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করলেন: প্রকৃত আলেম কারা? উত্তরে তিনি বললেন: যারা ইলম অনুযায়ী আমল করে তারাই প্রকৃত আলেম।   (দারেমী-৫৮৪)

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন: কিয়ামতের দিন পাঁচটি জিনিস সম্পর্কে প্রশ্ন না করা পর্যন্ত কোন আদম সন্তানকে এক কদমও অগ্রসর হতে দেয়া হবে না।

1.তার জীবন সম্পর্কে, সে কি কাজে তা ব্যয় করেছে।

২. তার যৌবন সম্পর্কে, সে কী পন্থায় তা।

৩. তার ধনসম্পদ সম্পর্কে, কোথা থেকে তা উপার্জন করেছে

৪. এবং তা কী কী খাতে খরচ করেছে

৫. সে যতটুকু জ্ঞান অর্জন করেছিল সে মোতাবেক কী কী আমল করেছে।

 

Leave a Reply