তাকওয়া বা আল্লাভীতির গুরুত্ব ও ফজিলত
মূল লেখক- প্রিয় ওস্তাদ উমর ফারুক (হাফিযাহুল্লাহ)
সম্পাদনা- ইসমাইল বিন ইবরাহীম
ভূমিকা
আল্লাহ তা‘আলা মানবজাতিকে একমাত্র তাঁর ইবাদত করার জন্য সৃষ্টি করেছেন। মানুষের হিদায়াতের জন্য যুগে যুগে নবী রাসূল প্রেরণ করেছেন। তারা মানুষকে হালাল-হারাম, বৈধ-অবৈধ, ভাল-মন্দ বিচার করে চলার জন্য তাকিদ দিয়েছেন। অন্যায়, অবৈধ, অবিচার ও অনৈতিক কার্যকলাপ থেকে বেঁচে থাকর জন্য খোদাভীতির প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব অপরিহার্য। একজন মানুষকে সৎ, যোগ্য ও আদর্শবান ব্যক্তি হতে হলে তাক্বওয়ার বিকল্প নেই।
তাক্বওয়ার শাব্দিক অর্থ
তাক্বওয়া আরবী শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ হল ভয় করা, বিরত থাকা, সংকোচ বোধ করা, হারাম থেকে বিরত থাকা, (বিশেষ অর্থে) হালাল ও মুবাহ বস্তু থেকে বিরত থাকা, আল্লাহভীতি, বেছে চলা ,আত্নশুদ্ধি, রক্ষা করা, সতর্কতা অবলম্বন করা ইত্যাদি।’’ -আলমু’জামুল ওয়াসীত, পৃ ঃ ১০২৫; লিসানুল আরব ৮/৩৮৮।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
فَوَقَاهُمُ اللَّهُ شَرَّ ذَٰلِكَ الْيَوْمِ وَلَقَّاهُمْ نَضْرَةً وَسُرُورًا ﴿الانسان: )١١
“আল্লাহ তাদেরকে ঐ দিনের ক্ষতি থেকে বাঁচিয়েছেন………………।’ -সূরা দাহরঃ ১১
তাক্বওয়ার পারিভাষিক অর্থ
ان عمر بن الخطاب (رض) سأل أبي بن كعب (رض) عن التقوي فقال أما سلكت طريقا ذا شوق قال بلي فما عملت قال شمرتُ واجتهدتُ قال فذالك التقوي
“উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) একবার উবাই ইবন কা’ব (রাঃ)-কে তাক্বওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন। উত্তরে উবাই ইবন কা’ব (রাঃ) বলেন, আপনি কি কাঁটাযুক্ত (কন্টকাকীর্ণ) পথে চলেছেন? উমর (রাঃ) বলেন, হ্যাঁ। উবাই ইবন কা’ব (রাঃ) পুনরায় বললেন, কিভাবে চলেছেন? জবাবে উমর (রাঃ) বলেন, “পোশাকে যেন কাঁটা বিদ্ধ না হয়, গায়ে যেন কাঁটা না লাগে সে জন্য চেষ্টা করেছি ও সতর্কভাবে চলেছি। উবাই (রাঃ) বলেন, এটাই হচ্ছে (রাঃ) তাক্বওয়া এর উদাহরণ।” – আবদুল্লাহ নাসের আলওয়ান, তারবিয়াতুল আওলাদ ফিল ইসলাম (বৈরুতঃ দারুস সালাম, ১৯৮১ খৃ.)।
মহান আল্লাহ তায়ালা সকল যুগের লোকদেরকে তাক্বওয়া অর্জনের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন,
( وَلَقَدْ وَصَّيْنَا الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ مِن قَبْلِكُمْ وَإِيَّاكُمْ أَنِ اتَّقُوا اللَّهَ ﴿النساء: ١٣١
“আমি তোমাদের পূর্বের আহলে কিতাবদের এ উপদেশ দিয়েছিলাম, আর এখন তোমাদেরকেও উপদেশ দিতেছি যে তাক্বওয়া অবলম্বন করো।’’ -সূরা নিসা ঃ ১৩১
তাক্বওয়ার বাস্তব চিত্র
তাক্বওয়া শুধু হাতে তাসবী,মাথায় টুপি-পাগড়ী, মুখে লম্বা দাঁড়ি, গায়ে লম্বা জামা এবং পেশাব-পায়খানায় ঢিলা ব্যবহার করার নাম নয় বরং এগুলো সুন্নাত ও মোস্তাহাব ছাড়া বেশী কিছু নয়। মোত্তাকী হতে হলে ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক এবং আন্তর্জাতিক নীতিসহ শিক্ষা ও অন্যান্য সকল বিষয়ে আল্লাহর আদেশ ও নিষেধ মানতে হবে। যেমন পর্দাহীনতা, সুদ, ঘুষ, সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের প্রতিরোধ, দাওয়াতে দ্বীন, দ্বীন প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব ইত্যাদি পালনের ব্যাপারে সচেতন থাকা।
তাক্বওয়ার উদাহরণ
বাইন মাছ যেমন কাদার মধ্যে থাকা সত্বেও তার গায়ে কাদা লাগে না, একজন মু’মিন সমাজে পাপ-পঙ্কিলতা এবং আল্লাহর নাফরমানীর কলুষিত পরিবেশে বাস করা সত্বেও তিনি আল্লাহর আদেশ নিষেধ মেনে চলেন। পরিবেশের তালে গা ভাসিয়ে দেয়ার পরিবর্তে তিনি আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে কলুষমুক্ত থাকেন। তিনি স্রোতের বিপরীতে চলেন এবং সমাজে ন্যায় ও কল্যাণের স্রোতধারা প্রবাহিত করেন।
তাক্বওয়া বা আল্লাহভীতির স্বরূপ
মানুষ তার মানবিক দুর্বলতার কারণে দুনিয়াতে অনেক কিছুকেই ভয় করে থাকে। যেমন মানুষ পুলিশকে ভয় করে, সাপ, বাঘ-ভাল্লুক, শত্রু“কে ভয় করে, ছাত্ররা উস্তাদকে ভয় করে, স্ত্রী স্বামীকে ভয় করে, সন্তানেরা পিতা-মাতাকে ভয় করে, মুরীদ স্বীয় পীরকে ভয় করে, চোর-ডাকাত, সন্ত্রাসকে ভয় করে, অফিসের বড় কর্তাকে ভয় করে আবার আল্লাহকেও ভয় করে। কিন্তু সকল ভয় কি একই প্রকারের? আসলে আল্লাহর নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত থেকে এবং রহমতের আশা রেখে তাঁর নির্দেশ সমূহ পালন করতঃ তাঁর ক্ষমতা, প্রতিপত্তি, সম্মান-মর্যাদায় যে মানের সত্তা তাঁকে সেই মানের ভয় করাই হল আল্লাভীতির স্বরূপ। কুরআনে রয়েছে,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ اتَّقُواْ اللّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ ﴿آلعمران: ١٠٢
“ওহে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহ তা‘আলাকে ভয় কর, যেমন তাকে ভয় করা উচিত।’’ -সূরা আলেইমরানঃ ১০২
আল-কুরআন ও আল-হাদীসে তাক্বওয়ার নির্দেশ
উপরোক্ত সংজ্ঞা ও উদাহরণের কথা বিবেচনা করেই কুরআন ও হাদীসের সর্বত্রই আল্লাহ সকল যুগের লোকদেরকে তাক্বওয়া অর্জনের নির্দেশ দিয়ে বলেন,
وَلَقَدْ وَصَّيْنَا الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ مِن قَبْلِكُمْ وَإِيَّاكُمْ أَنِ اتَّقُوا اللَّهَ ﴿النساء: ١٣١
‘আমি তোমাদের পূর্বের আহলে কিতাবদের এ উপদেশ দিয়েছিলাম আর এখন তোমাদেরকেও উপদেশ দিতেছি যে তাক্বওয়া অবলম্বন করো।’ -সূরা নিসাঃ ১৩১
يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُم مِّن نَّفْسٍ وَاحِدَةٍ ﴿النساء: ١
“হে মানব সম্প্রদায়! তোমরা তোমাদের সেই প্রভুকে ভয় কর যিনি তোমাদেরকে একই আত্মা থেকে সৃষ্টি করেছেন।’’ -সূরা নিসাঃ ১
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন,
أُوصِيكُمْ بِتَقْوَى اللَّهِ وَالسَّمْعِ وَالطَّاعَةِ وَإِنْ عَبْدًا حَبَشِيًّا (رَوَاهُ أَحْمد وَالنَّسَائِيّ والدارمي
“আমি তোমাদের নসীহত করছি আল্লাহকে ভয় করার এবং (ইমাম বা নেতার) কথা শুনা ও তার আনুগত্য করার। যদিও সে হয় হাবশী গোলাম।’’ -আহমদ; নাসাঈ; দারেমী; মিশকাতঃ ১৬৫
তাক্বওয়ার মৌলিক বিষয়
তাক্বওয়ার মৌলিক বিষয় হচ্ছে তিনটি। যথাঃ-
ক। শিরক হতে বিরত থাকার মাধ্যমে নির্দিষ্ট শাস্তি হতে আত্নরক্ষা করা।
খ। গুনাহ থেকে দূরে থাকা।
গ। এমন কাজ থেকে দূরে থাকা, যা আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফিল করে দেয়।
তাক্বওয়ার স্তর সমূহঃ
ইমাম গায্যালী (রঃ) গুণগত ও মানগত দিক দিয়ে তাক্বওয়াকে চারটি স্তরে বিভক্ত করেছেন। যথাঃ-
ক। শরীআত কর্তৃক নির্ধারিত হারাম থেকে বিরত থাকা। এ শ্রেণীর মুত্তাকীকে“مؤمن মু’মিন’ বলে।
খ। সন্দেহযুক্ত হালাল বস্তু পরিত্যাগ করা। এ শ্রেণীর মুত্তাকীকে ‘ صلحاء সুলাহা’ বলা হয়।
গ। আল্লাহর ভয়ে অপ্রয়োজনীয় হালাল বস্তু বর্জন করা। এ শ্রেণীর মুত্তাকীকে ‘ اتقياء আতক্বিয়া’ বলা হয়।
ঘ। যে সকল হালাল বস্তু আল্লাহর ইবাদতে সহায়তা করে না তা বর্জন করা। এ শ্রেণীর মুত্তাকীকে ‘ صديقين সিদ্দীক্বীন’ বলা হয়।
আল্লামা রাগিব ইস্পাহানী পরহিযগারিতাকে তিনটি স্তরে বিন্যাস করেছেন। যথাঃ-
১। ওয়াজিবঃ সকল প্রকার হারাম থেকে বেঁচে থাকা। এ প্রকারের পরহিযগারিতা অর্জন করা সকল মানুষের উপর ওয়াজিব।
২। মুস্তাহাবঃ সন্দেহপূর্ণ বস্তুসমূহ থেকে বেঁচে থাকা। মধ্যম স্তরের পরহিযগার ব্যক্তিদের জন্য এ স্তরটি প্রযোজ্য।
৩। মাফযূলঃ অনেক মুবাহ এবং স্বল্প প্রয়োজনীয় বস্তু সমূহ থেকেও বিরত থাকা। নবী-রাসূল, শহীদ এবং সালিহ বান্দাদের জন্য এ স্তরটি প্রযোজ্য।’’ -রাগিব ইস্পাহানী, আয-যারী’আহ ইলা মাকারিমিশ শারী’আহ, (কায়রো : দারুস সালাম, ২০০৭), পৃ. ২২৭
তাক্বওয়ার সর্বোচ্চ স্তর
আল্লাহ ভীতির সর্বোচ্চ স্তর হল না-জায়েয কাজে জড়িয়ে পরার ভয়ে কোন কোন জায়েয কাজও পরিত্যাগ করা। কেননা, যা কিছু স্পষ্ট পাপ, তা তো সকলেই বর্জন করবে এবং যা কিছু স্পষ্ট সওয়াব তাও তো সকলেই আমল করবে কিন্ত যা কিছু সন্দেহপূর্ণ সেখানেই তো প্রকৃত ঈমানের পরীক্ষা। তাই তো রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: الحَلاَلُ بَيِّنٌ وَالحَرَامُ بَيِّنٌ، وَبَيْنَ ذَلِكَ أُمُورٌ مُشْتَبِهَاتٌ، لاَ يَدْرِي كَثِيرٌ مِنَ النَّاسِ أَمِنَ الحَلاَلِ هِيَ أَمْ مِنَ الحَرَامِ، فَمَنْ تَرَكَهَا اسْتِبْرَاءً لِدِينِهِ وَعِرْضِهِ فَقَدْ سَلِمَ، وَمَنْ وَاقَعَ شَيْئًا مِنْهَا، يُوشِكُ أَنْ يُوَاقِعَ الحَرَامَ (ترمذى
“হালাল সুস্পষ্ট, হারামও সুস্পষ্ট । আর এদুয়ের মাঝখানে রয়েছে কিছু সন্দেহজনক জিনিস। অধিকাংশ লোকেরা অবগত নয় যে এগুলো হালাল নাকি হারাম। কাজেই যে ব্যক্তি এসব সন্দেহজনক জিনিস থেকে দূরে থাকল, সে তার দ্বীন ও ইজ্জতকে হিফাযত করল। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি সন্দেহজনক বিষয়ে জড়িয়ে পড়ল, সে হারামের মধ্যে ফেঁসে গেল।’’ -তিরমিযীঃ ১২০৫
তাক্বওয়ার মূল বৈশিষ্ট্য
তাক্বওয়ার মূল বৈশিষ্ট্য হচ্ছে ছয়টি। যথাঃ-
ক। تفتيش الحق “তাফতীশুল হাক্ব” তথা সত্যের অনুসন্ধান। সত্য উপলব্ধি ও প্রকৃত সত্য প্রাপ্তির জন্য চিন্তা গবেষণা করা।
খ। قبول الحق “সত্য গ্রহণ।” প্রকৃত সত্য সন্ধানের পর সত্যের উপলদ্ধি ও সত্য প্রাপ্তির সাথে নির্দ্বিধায়, নিঃসংকোচে সত্যকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে গ্রহণ করা।
গ। استقامة علي الحق “আপোষহীনভাবে সত্যের উপর সুদৃঢ় থাকা।” নিষ্ঠা ও দৃঢ়তার সাথে সত্যকে গ্রহণ করে তার উপর সুপ্রতিষ্ঠিত থাকা। লোভ-লালসা ও সুযোগ সুবিধা ভোগ অথবা অত্যাচার নির্যাতনের কারণে সত্যকে পরিহার না করা।
ঘ্। خوف الهي “আল্লাহভীতি।” আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের লক্ষ্যে প্রতিমুহুর্তে আল্লাহর নিকট জবাবদিহিতার চেতনায় উদ্ধুদ্ধ ও অনুপ্রাণিত হয়ে আল্লাহকে ভয় করা।
ঙ। احساس الذمة “দায়িত্ব সচেতনতা।” আল্লাহ প্রদত্ত দায়িত্ব সম্পর্কে সদা সচেতন ও সতর্ক থাকা।
চ। اداء الفرائض “কর্তব্য পালন।” আল্লাহ প্রদত্ত কর্তব্যসমূহ যথাযথভাবে আদায় করা।
তাক্বওয়ার গুরুত্ব
তাক্বওয়াবানদের নিকট সত্য-মিথ্যার পরিচয় সুস্পষ্ট হয়ে উঠেঃ
যাদের মধ্যে আল্লাহর ভয় প্রবল, তাদের নিকট আল্লাহর আদেশ-নিষেধ তথা জায়িয-নাজায়িয, হালাল-হারাম, সত্য-মিথ্যা, ন্যায়-অন্যায় ইত্যাদি বিষয়গুলোর অতি সুক্ষ সুক্ষ প্রার্থক্যগুলো স্পষ্ট হয়ে উঠে। দুনিয়াদাররা কিন্তু তা পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারে না। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِن تَتَّقُوا اللَّهَ يَجْعَل لَّكُمْ فُرْقَانًا ﴿الأنفال: ٢٩
“হে ঈমানদারগণ! যদি তোমরা আল্লাহ তা‘আলাকে ভয় কর তাহলে তিনি তোমাদেরকে সত্য-মিথ্যার প্রার্থক্য নির্ণয়কারী একটি মানদণ্ড দান করবেন।’’ -সূরা আনফালঃ ২৯
উত্তম ও অধমের মাপকাঠি হল তাক্বওয়া
মানুষের কাছে মানুষের সম্মান ও সুখ্যাতি অর্থ-বিত্ত, ক্ষমতা, পদমর্যাদা ইত্যাদি দ্বারা ছড়িয়ে পরলেও আল্লাহ তা‘আলার নিকট সম্মান ও মর্যাদার একমাত্র মানদন্ড হল তাক্বওয়া বা খোদাভীতি। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِندَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ ﴿الحجرات: ١٣
“নিশ্চয় তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি আল্লাহ তা‘আলার নিকট সম্মানিত যে তোমাদের মধ্যে অধিক তাক্বওয়াবান।’’ -সূরা হুজুরাতঃ ১৩
রাসূলুল্লাহ ﷺ আবূ যর (রাঃ)-কে উদ্দেশ্য করে বলেন,
عَنْ أَبِي ذَرٍّ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَهُ: إِنَّكَ لَسْتَ بِخَيْرٍ مِنْ أَحْمَرَ وَلَا أَسْوَدَ إِلَّا أَنْ تفضلَه بتقوى (رَوَاهُ أَحْمد)
“তুমি সাদা বা কাল এর ভিত্তিতে উত্তম হতে পারবে না, যদি তাক্বওয়ার দিক থেকে তুমি এগিয়ে না থাক।’’ -আহমদ; মিশকাতঃ ৫১৯৮
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَي النَّاس أكْرم؟ فَقَالَ: أَكْرَمُهُمْ عِنْدَ اللَّهِ أَتْقَاهُمْ ( مُتَّفق عَلَيْهِ
“রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে একবার জিজ্ঞেস করা হল: ইয়া রাসূলাল্লাহ! মানুষের মধ্যে কে সবচেয়ে বেশী সম্মানিত। তিনি বললেন: তোমাদের মধ্যে যে বেশি পরহিযগার সে বেশি সম্মানিত।’’ – বুখারী; মুসলিম; মিশকাতঃ ৪৮৯৩
তাক্বওয়া উত্তম পাথেয়
আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন,
وَتَزَوَّدُوا فَإِنَّ خَيْرَ الزَّادِ التَّقْوَىٰ ۚ وَاتَّقُونِ يَا أُولِي الْأَلْبَابِ ﴿البقرة: ١٩٧
“তোমরা পাথেয় সঞ্চয় কর, আর উত্তম পাথেয় হল তাক্বওয়া। অতঃএব ওহে জ্ঞানী ব্যক্তিরা! তোমরা আমাকেই ভয় কর।’’ -সূরা বাকারাঃ ১৯৭
عَنْ أَنَسٍ قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أُرِيدُ سَفَرًا فَزَوِّدْنِي فَقَالَ: زَوَّدَكَ اللَّهُ التَّقْوَى ( رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ
“জনৈক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ ﷺ -এর নিকট আগমন করে আরয করল: ইয়া রাসূলাল্লাহ ﷺ ! আমি সফরে যেতে ইচ্ছা করেছি। আমাকে কিছু পাথেয় দান করুন। রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন: আল্লাহ তা‘আলা তোমাকে পাথেয় হিসেবে তাক্বওয়া বা পরহিযগারী দান করুন।’’ -তিরমিযী; মিশকাতঃ ২৪৩৭
তাক্বওয়ার উপকারীতা
তাক্বওয়া অবলম্বনকারীদেরকে দুনিয়ার অনেক স্বাদ-আহলাদ, আরাম-আয়েশ ও ভোগ-বিলাস বিসর্জন দিয়ে জীবন-যাপন করতে হয়। তাই আল্লাহ তা‘আলা তাদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে বিভিন্ন প্রকারের পুরস্কারের ব্যবাস্থা করে রেখেছেন। যেমন
তাক্বওয়ার ইহকালীন উপকারীতা
১। তাক্বওয়ার ফলে মানুষের যাবতীয় জটিল বিষয়গুলো সহজ হয়ে যায়।
وَمَن يَتَّقِ اللَّهَ يُكَفِّرْ عَنْهُ سَيِّئَاتِهِ وَيُعْظِمْ لَهُ أَجْرًا
এটা আল্লাহর নির্দেশ, যা তিনি তোমাদের প্রতি নাযিল করেছেন। যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার পাপ মোচন করেন এবং তাকে মহাপুরস্কার দেন। (সূরা তালাকঃ ৪)
২। তাক্বওয়ার ফলে মানুষ শয়তানের অনিষ্ট থেকে বাঁচতে পারে।
إِنَّ الَّذِينَ اتَّقَوْا إِذَا مَسَّهُمْ طَائِفٌ مِّنَ الشَّيْطَانِ تَذَكَّرُوا فَإِذَا هُم مُّبْصِرُونَ
যাদের মনে ভয় রয়েছে, তাদের উপর শয়তানের আগমন ঘটার সাথে সাথেই তারা সতর্ক হয়ে যায় এবং তখনই তাদের বিবেচনাশক্তি জাগ্রত হয়ে উঠে। (সূরা আরাফঃ ২০১)
৩। আসমান ও যমীনের বরকতের দরজা খুলে যায়।
وَلَوْ أَنَّ أَهْلَ الْقُرَىٰ آمَنُوا وَاتَّقَوْا لَفَتَحْنَا عَلَيْهِم بَرَكَاتٍ مِّنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ وَلَٰكِن كَذَّبُوا فَأَخَذْنَاهُم بِمَا كَانُوا يَكْسِبُونَ
আর যদি সে জনপদের অধিবাসীরা ঈমান আনত এবং পরহেযগারী অবলম্বন করত, তবে আমি তাদের প্রতি আসমানী ও পার্থিব নেয়ামত সমূহ উম্মুক্ত করে দিতাম। কিন্তু তারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে। সুতরাং আমি তাদেরকে পাকড়াও করেছি তাদের কৃতকর্মের বদলাতে। ( সূরা আরাফঃ ৯৬)
৪। সত্য ও বাতিলের মধ্যে পার্থক্য করার তৌফিক লাভ করে।
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِن تَتَّقُوا اللَّهَ يَجْعَل لَّكُمْ فُرْقَانًا وَيُكَفِّرْ عَنكُمْ سَيِّئَاتِكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ۗ وَاللَّهُ ذُو الْفَضْلِ الْعَظِيمِ
হে ঈমানদারগণ তোমরা যদি আল্লাহকে ভয় করতে থাক, তবে তোমাদের মধ্যে ফয়সালা করে দেবেন এবং তোমাদের থেকে তোমাদের পাপকে সরিয়ে দেবেন এবং তোমাদের ক্ষমা করবেন। বস্তুতঃ আল্লাহর অনুগ্রহ অত্যন্ত মহান। ( সূরা আনফালঃ ২৯)
৫। সংকট থেকে উদ্ধার করবেন।
وَمَن يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَل لَّهُ مَخْرَجًا
আর যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্যে নিস্কৃতির পথ করে দেবেন। ( সূরা তালাকঃ ২)
৬। অপরিসীম রিযক দান করবেন।
وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ ۚ
এবং তাকে তার ধারণাতীত জায়গা থেকে রিযিক দেবেন। ( সূরা তালাকঃ ৩)
৭। আল্লাহ তায়ালা সাহয্যকারী হয়ে যাবেন।
وَمَن يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ ۚ إِنَّ اللَّهَ بَالِغُ أَمْرِهِ ۚ قَدْ جَعَلَ اللَّهُ لِكُلِّ شَيْءٍ قَدْرًا
যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করে তার জন্যে তিনিই যথেষ্ট। আল্লাহ তার কাজ পূর্ণ করবেন। আল্লাহ সবকিছুর জন্যে একটি পরিমাণ স্থির করে রেখেছেন। ( সূরা তালাকঃ ৩)
৮। আল্লাহর ওলী ও বন্ধু হওয়া যায়।
وَمَا لَهُمْ أَلَّا يُعَذِّبَهُمُ اللَّهُ وَهُمْ يَصُدُّونَ عَنِ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ وَمَا كَانُوا أَوْلِيَاءَهُ ۚ إِنْ أَوْلِيَاؤُهُ إِلَّا الْمُتَّقُونَ وَلَٰكِنَّ أَكْثَرَهُمْ لَا يَعْلَمُونَ
আর তাদের মধ্যে এমন কি বিষয় রয়েছে, যার ফলে আল্লাহ তাদের উপর আযাব দান করবেন না। অথচ তারা মসজিদে-হারামে যেতে বাধাদান করে, অথচ তাদের সে অধিকার নেই। এর অধিকার তো তাদেরই রয়েছে যারা পরহেযগার। কিন্তু তাদের অধিকাংশই সে বিষয়ে অবহিত নয়। ( সূরা আনফালঃ ৩৪)
৯। আল্লাহর ভালোবাসা লাভ করা যায়।
بَلَىٰ مَنْ أَوْفَىٰ بِعَهْدِهِ وَاتَّقَىٰ فَإِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُتَّقِينَ
যে লোক নিজ প্রতিজ্ঞা পূর্ন করবে এং পরহেজগার হবে, অবশ্যই আল্লাহ পরহেজগারদেরকে ভালবাসেন। ( সূরা আলে ইমরানঃ ৭৬)
১০। আল্লাহর সাহচার্য লাভ করা যায়।
وَاتَّقُوا اللَّهَ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ مَعَ الْمُتَّقِينَ
আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং জেনে রাখ, যারা পরহেযগার, আল্লাহ তাদের সাথে রয়েছেন। ( সূরা বাকারাঃ ১৯৪)
১১। মোত্তাকীর আমল কবুল হয়।
إِنَّمَا يَتَقَبَّلُ اللَّهُ مِنَ الْمُتَّقِينَ
আল্লাহ ধর্মভীরুদের পক্ষ থেকেই তো গ্রহণ করেন। (সূরা মায়িদাঃ ২৭)
১২। দুনিয়া ও আখিরাতে আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের কোন ভয়-ভীতি নেই।
فَمَنِ اتَّقَىٰ وَأَصْلَحَ فَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ
তবে যে ব্যক্তি সংযত হয় এবং সৎকাজ অবলম্বন করে, তাদের কোন আশঙ্কা নেই এবং তারা দুঃখিত হবে না। ( সূরা আরাফঃ ৩৫)
১৩। গুনাহ মাফ ও বিশাল পুরস্কার দেয়া হবে।
ذَٰلِكَ أَمْرُ اللَّهِ أَنزَلَهُ إِلَيْكُمْ ۚ وَمَن يَتَّقِ اللَّهَ يُكَفِّرْ عَنْهُ سَيِّئَاتِهِ وَيُعْظِمْ لَهُ أَجْرًا
এটা আল্লাহর নির্দেশ, যা তিনি তোমাদের প্রতি নাযিল করেছেন। যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার পাপ মোচন করেন এবং তাকে মহাপুরস্কার দেন। ( সূরা তালাকঃ ৫)
১৪। ভয়-ভীতি মুক্ত জীবন লাভ।
أَلَا إِنَّ أَوْلِيَاءَ اللَّهِ لَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ الَّذِينَ آمَنُوا وَكَانُوا يَتَّقُونَ
মনে রেখো যারা আল্লাহর বন্ধু, তাদের না কোন ভয় ভীতি আছে, না তারা চিন্তান্বিত হবে। যারা ঈমান এনেছে এবং ভয় করতে রয়েছে। (সূরা ইউনুছঃ ৬২,৬৩)
১৫। মোত্তাকী আল্লাহর কাছে সর্বাধিক সম্মানিত।
يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُم مِّن ذَكَرٍ وَأُنثَىٰ وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا ۚ إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِندَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ ۚ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ
হে মানব, আমি তোমাদেরকে এক পুরুষ ও এক নারী থেকে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি, যাতে তোমরা পরস্পরে পরিচিতি হও। নিশ্চয় আল্লাহর কাছে সে-ই সর্বাধিক সম্ভ্রান্ত যে সর্বাধিক পরহেযগার। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সবকিছুর খবর রাখেন। ( সূরা হুজুরাতঃ ১৩)
১৬। আল্লাহ মোমেন মোত্তাকীকে নাজাত দেন ও উদ্ধার করেন।
وَنَجَّيْنَا الَّذِينَ آمَنُوا وَكَانُوا يَتَّقُونَ
যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছিল ও সাবধানে চলত, আমি তাদেরকে উদ্ধার করলাম। ( সূরা হা-মীম সাজদাহঃ/ ফুস্সিলাতঃ ১৮)
১৭। তাক্বওয়ার অনুসারীরা দুনিয়া ও আখিরাতে খোশ খবর লাভ করে। এর মধ্যে দুনিয়ায় স্বপ্ন কিংবা মানুষের ভালোবাসা ও প্রশংসা অন্যতম।
الَّذِينَ آمَنُوا وَكَانُوا يَتَّقُونَ لَهُمُ الْبُشْرَىٰ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ ۚ لَا تَبْدِيلَ لِكَلِمَاتِ اللَّهِ ۚ ذَٰلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ
যারা ঈমান এনেছে এবং ভয় করতে রয়েছে। তাদের জন্য সুসংবাদ পার্থিব জীবনে ও পরকালীন জীবনে। আল্লাহর কথার কখনো হের-ফের হয় না। এটাই হল মহা সফলতা। (সূরা ইউনুসঃ ৬৩-৬৪)
তাক্বওয়ার পরকালীন উপকারিতা
তাক্বওয়ার মাধ্যমে পরকালে জান্নাত, মুক্তি, সম্মান, মর্যাদা ও বহু নি‘য়ামত লাভের সৌভাগ্য হবে। যেমন
১। মোত্তাকীরা বেহেশতে থাকবে।
إِنَّ الْمُتَّقِينَ فِي مَقَامٍ أَمِينٍ )٤٤:٥١
নিশ্চয় খোদাভীরুরা নিরাপদ স্থানে থাকবে। ( সূরা দোখানঃ ৫১)
২। তাক্বওয়ার ফল হবে জান্নাত লাভ।
وَسَارِعُوا إِلَىٰ مَغْفِرَةٍ مِّن رَّبِّكُمْ وَجَنَّةٍ عَرْضُهَا السَّمَاوَاتُ وَالْأَرْضُ أُعِدَّتْ لِلْمُتَّقِينَ )٣:١٣٣
তোমরা তোমাদের পালনকর্তার ক্ষমা এবং জান্নাতের দিকে ছুটে যাও যার সীমানা হচ্ছে আসমান ও যমীন, যা তৈরী করা হয়েছে পরহেযগারদের জন্য। (সূরা আলে ইমরানঃ ১৩৩)
৩। মোত্তাকীরা নহর প্রবাহিত জান্নাতে বাস করবে।
قُلْ أَؤُنَبِّئُكُم بِخَيْرٍ مِّن ذَٰلِكُمْ ۚ لِلَّذِينَ اتَّقَوْا عِندَ رَبِّهِمْ جَنَّاتٌ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَأَزْوَاجٌ مُّطَهَّرَةٌ وَرِضْوَانٌ مِّنَ اللَّهِ ۗ وَاللَّهُ بَصِيرٌ بِالْعِبَادِ ) ٣:١٥
বলুন, আমি কি তোমাদেরকে এসবের চাইতেও উত্তম বিষয়ের সন্ধান বলবো?-যারা পরহেযগার, আল্লাহর নিকট তাদের জন্যে রয়েছে বেহেশত, যার তলদেশে প্রস্রবণ প্রবাহিত-তারা সেখানে থাকবে অনন্তকাল। আর রয়েছে পরিচ্ছন্ন সঙ্গিনীগণ এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি। আর আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি সুদৃষ্টি রাখেন। (সূরা আলে ইমরানঃ ১৫)
৪। মোত্তাকীদেরকে দলে দলে বেহেশতে নেয়া হবে।
وَسِيقَ الَّذِينَ اتَّقَوْا رَبَّهُمْ إِلَى الْجَنَّةِ زُمَرًا ۖ حَتَّىٰ إِذَا جَاءُوهَا وَفُتِحَتْ أَبْوَابُهَا وَقَالَ لَهُمْ خَزَنَتُهَا سَلَامٌ عَلَيْكُمْ طِبْتُمْ فَادْخُلُوهَا خَالِدِينَ ) ٣٩:٧٣
যারা তাদের পালনকর্তাকে ভয় করত তাদেরকে দলে দলে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। যখন তারা উম্মুক্ত দরজা দিয়ে জান্নাতে পৌছাবে এবং জান্নাতের রক্ষীরা তাদেরকে বলবে, তোমাদের প্রতি সালাম, তোমরা সুখে থাক, অতঃপর সদাসর্বদা বসবাসের জন্যে তোমরা জান্নাতে প্রবেশ কর। ( সূরা যুমারঃ ৭৩)
৫। মোত্তাকীরা নিরাপদ স্থানে বাস করবে। সেখানে কোন বিপদ-আপদ নেই।
إِنَّ الْمُتَّقِينَ فِي مَقَامٍ أَمِينٍ )٤٤:٥١
নিশ্চয় খোদাভীরুরা নিরাপদ স্থানে থাকবে। ( সূরা দোখানঃ ৫১)
৬। মোত্তাকীরা আল্লাহর প্রতিনিধি দলের মর্যাদা লাভ করবে।
يَوْمَ نَحْشُرُ الْمُتَّقِينَ إِلَى الرَّحْمَٰنِ وَفْدًا )١٩:٨٥
সেদিন দয়াময়ের কাছে পরহেযগারদেরকে অতিথিরূপে সমবেত করব, (সূরা মরিয়মঃ ৮৫)
৭। মোত্তাকীদের জন্য জান্নাতে কক্ষের উপর কক্ষ অর্থাৎ বহুতল ভবন দেয়া হবে।
لَٰكِنِ الَّذِينَ اتَّقَوْا رَبَّهُمْ لَهُمْ غُرَفٌ مِّن فَوْقِهَا غُرَفٌ مَّبْنِيَّةٌ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ ۖ وَعْدَ اللَّهِ ۖ لَا يُخْلِفُ اللَّهُ الْمِيعَادَ
কিন্তু যারা তাদের পালনকর্তাকে ভয় করে, তাদের জন্যে নির্মিত রয়েছে প্রাসাদের উপর প্রাসাদ। এগুলোর তলদেশে নদী প্রবাহিত। আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আল্লাহ প্রতিশ্রুতির খেলাফ করেন না। ( সূরা যুমারঃ ২০)
৮। মোত্তাকীদের জন্য আল্লাহর কাছে রয়েছে সত্যের আসন।
إِنَّ الْمُتَّقِينَ فِي جَنَّاتٍ وَنَهَرٍ )٥٤:٥٤ ( فِي مَقْعَدِ صِدْقٍ عِندَ مَلِيكٍ مُّقْتَدِرٍ )٥٤:٥٥
খোদাভীরুরা থাকবে জান্নাতে ও নির্ঝরিণীতে। যোগ্য আসনে, সর্বাধিপতি সম্রাটের সান্নিধ্যে। ( সূরা কামারঃ ৫৪-৫৫)
৯। মোত্তাকীরাই হবে জান্নাতের উত্তরাধিকারী।
تِلْكَ الْجَنَّةُ الَّتِي نُورِثُ مِنْ عِبَادِنَا مَن كَانَ تَقِيًّا )١٩:٦٣
এটা ঐ জান্নাত যার অধিকারী করব আমার বান্দাদের মধ্যে পরহেযগারদেরকে। ( সূরা মরিয়ামঃ ৬৩)
১০। জান্নাতকে মোত্তাকীদের নিকটবর্তী করা হবে
وَأُزْلِفَتِ الْجَنَّةُ لِلْمُتَّقِينَ (٢٦:٩٠)
জান্নাত আল্লাহভীরুদের নিকটবর্তী করা হবে। (সূরা শুয়ারাঃ ৯০)
১১। মোত্তাকীদেরকে বেহেশতের আয়তলোচনা হুরদের সাথে বিয়ে দেয়া হবে।
إِنَّ الْمُتَّقِينَ فِي مَقَامٍ أَمِينٍ – فِي جَنَّاتٍ وَعُيُونٍ – يَلْبَسُونَ مِن سُندُسٍ وَإِسْتَبْرَقٍ مُّتَقَابِلِينَ – ذَٰلِكَ وَزَوَّجْنَاهُم بِحُورٍ عِينٍ – يَدْعُونَ فِيهَا بِكُلِّ فَاكِهَةٍ آمِنِينَ – لَا يَذُوقُونَ فِيهَا الْمَوْتَ إِلَّا الْمَوْتَةَ الْأُولَىٰ ۖ وَوَقَاهُمْ عَذَابَ الْجَحِيمِ – فَضْلًا مِّن رَّبِّكَ ۚ ذَٰلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ
নিশ্চয় খোদাভীরুরা নিরাপদ স্থানে থাকবে- উদ্যানরাজি ও নির্ঝরিণীসমূহে। তারা( পরিধান করবে চিকন ও পুরু রেশমীবস্ত্র, মুখোমুখি হয়ে বসবে। এরূপই হবে এবং আমি তাদেরকে আনতলোচনা স্ত্রী দেব। তারা সেখানে শান্ত মনে বিভিন্ন ফল-মূল আনতে বলবে। তারা সেখানে মৃত্যু আস্বাদন করবে না, প্রথম মৃত্যু ব্যতীত এবং আপনার পালনকর্তা তাদেরকে জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করবেন। আপনার পালনকর্তার কৃপায় এটাই মহা সাফল্য। ( সূরা দোখানঃ ৫১-৫৭)
১২। আল্লাহ মোত্তাকীদেরকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেবেন।
ثُمَّ نُنَجِّي الَّذِينَ اتَّقَوا وَّنَذَرُ الظَّالِمِينَ فِيهَا جِثِيًّا )١٩:٧٢
অতঃপর আমি পরহেযগারদেরকে উদ্ধার করব এবং জালেমদেরকে সেখানে নতজানু অবস্থায় ছেড়ে দেব। (সূরা মারইয়ামঃ ৭২)
১৩। মোত্তাকীদের বন্ধু ছাড়া কিয়ামতের দিন অন্য সকল বন্ধু শত্রুতে পরিণত হবে। তাই মোত্তাকীরেকে দুনিয়াতে বন্ধু বানানোর চেষ্টা করলে পরকালে তারা কাজে আসবে।
الْأَخِلَّاءُ يَوْمَئِذٍ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ عَدُوٌّ إِلَّا الْمُتَّقِينَ )٤٣:٦٧
বন্ধুবর্গ সেদিন একে অপরের শত্রু হবে, তবে খোদাভীরুরা নয়। ( সূরা যুখরুফঃ ৬৭)
১৪। মোত্তাকীদের জন্য প্রতিশ্রুত জান্নাতে পরিষ্কারও সুপেয় পানি, অবিকৃত স্বাদের দুধ, স্বাদের শরাব এবং স্বচ্ছ মধু এ চার ধরনের নহর প্রবাহিত হবে।
مَّثَلُ الْجَنَّةِ الَّتِي وُعِدَ الْمُتَّقُونَ ۖ فِيهَا أَنْهَارٌ مِّن مَّاءٍ غَيْرِ آسِنٍ وَأَنْهَارٌ مِّن لَّبَنٍ لَّمْ يَتَغَيَّرْ طَعْمُهُ وَأَنْهَارٌ مِّنْ خَمْرٍ لَّذَّةٍ لِّلشَّارِبِينَ وَأَنْهَارٌ مِّنْ عَسَلٍ مُّصَفًّى ۖ وَلَهُمْ فِيهَا مِن كُلِّ الثَّمَرَاتِ وَمَغْفِرَةٌ مِّن رَّبِّهِمْ ۖ كَمَنْ هُوَ خَالِدٌ فِي النَّارِ وَسُقُوا مَاءً حَمِيمًا فَقَطَّعَ أَمْعَاءَهُمْ )٤٧:١٥
পরহেযগারদেরকে যে জান্নাতের ওয়াদা দেয়া হয়েছে, তার অবস্থা নিম্নরূপঃ তাতে আছে পানির নহর, নির্মল দুধের নহর যারা স্বাদ অপরিবর্তনীয়, পানকারীদের জন্যে সুস্বাদু শরাবের নহর এবং পরিশোধিত মধুর নহর। তথায় তাদের জন্যে আছে রকমারি ফল-মূল ও তাদের পালনকর্তার ক্ষমা। পরহেযগাররা কি তাদের সমান, যারা জাহান্নামে অনন্তকাল থাকবে এবং যাদেরকে পান করতে দেয়া হবে ফুটন্ত পানি অতঃপর তা তাদের নাড়িভূঁড়ি ছিন্ন বিচ্ছিন্ন করে দেবে? (সূরা মুহাম্মদঃ ১৫)
তাক্বওয়ার অন্তর্ভূক্ত কার্যাবলী
পরকালের চিন্তায় মগ্ন থাকা
কবর, পুনরুত্থান, হাশর, পাপ-পূন্যের ওজন, আমলনামা হস্তান্তর, পুলসিরাত অতিক্রম ইত্যাদি মনযিলগুলোর ভয়াবহতা, সেখানে পাপীদের দূরাবস্থা, লাঞ্চনা ইত্যাদি নিয়ে চিন্তা-ফিকির করা তাক্বওয়া বা আল্লাহ-ভীতিরই শামিল।
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ أَبُو بَكْرٍ: يَا رَسُولَ اللَّهِ قَدْ شِبْتَ. قَالَ: شَيَّبَتْنِي (هود) و (المرسلات) و (عمَّ يتساءلون) و إِذا الشَّمْسُ كُوِّرَتْ) (رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ
“আবূ বকর (রাঃ) একবার রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে জিজ্ঞেস করলেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি তো বৃদ্ধ হয়ে গেছেন! রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন: আমাকে সূরা হুদ, (সূরা ওয়াকিয়াহ), সূরা মুরসালাত, সূরা আম্মা-ইয়াতাছা-আলূন এবং ইযাস-সামছু কুওিয়্যরাত সূরাসমূহ বৃদ্ধ বানিয়েছে (এ সূরাগুলোতে আখিরাত, দোযখ, বেহেশ্ত ইত্যাদি সম্পর্কে বেশি করে আলোচনা করা হয়েছে। সেগুলো নিয়ে অধিক চিন্তার কারণেই তিনি বৃদ্ধ হয়ে গেছেন)।’’ -তিরমিযী; মিশকাতঃ ৫৩৫৪
عَن أبي جُحَيْفَة قَالَ: قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ قَدْ شِبْتَ. قَالَ: شَيَّبَتْنِي سُورَةُ هُودٍ وَأَخَوَاتُهَا )رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ
“রাসূলুল্লাহ ﷺ কে সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি তো বৃদ্ধ হয়ে গেছেন! রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন: আমাকে সূরা হুদ ও তার বোনেরা বৃদ্ধ বানিয়েছে।” -তিরমিযী; মিশকাতঃ ৫৩৫৩
জাহান্নামের শাস্তির ভয়ে ক্রন্দন করা
হাদীস শরীফে রয়েছে,
لَوْ تَعْلَمُونَ مَا أَعْلَمُ لَضَحِكْتُمْ قَلِيلاً وَلَبَكَيْتُمْ كَثِيرًا (مُتَّفَقٌ عَلَيْه ,رَوَاهُ أَحْمد وَالتِّرْمِذِيّ وَابْن مَاجَه
“আমি যা জানি যদি তোমরা তা জানতে, তবে তোমরা বেশি করে কাঁদতে এবং কম করে হাসতে।’’ -বুখারী; মুসলিম; আহমদ; তিরমিযী; ইবন মাজাহ; মিশকাতঃ ১৪৮৩, ৫৩৪৭
عَنْ عَائِشَةَ، : أَنَّهَا ذَكَرَتِ النَّارَ فَبَكَتْ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلعم مَا يُبْكِيكِ قَالَتْ : ذَكَرْتُ النَّارَ فَبَكَيْتُ ( رَوَاهُ أَبُو دَاوُد)
“আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি একদা জাহান্নামকে স্মরণ করে কাঁদছিলেন, নবীজী ﷺ তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন: কী কারণে তুমি কাঁদছ? তিনি জবাব দিলেন: আমি জাহান্নামকে স্মরণ করে কাঁদছি।’’ -আবূ দাঊদ; মিশকাতঃ ৫৫৬০
আল্লাহর সামনে দাঁড়ানোর ভয়
দুনিয়ার জীবনের সমাপ্তির পর একদিন আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে হবে। যাবতীয় আদেশ-নিষেধ সম্পর্র্কে আল্লাহর সামনে জবাব দিতে হবে। এসব বিষয় নিয়ে চিন্তা করাও তাক্বওয়া বা আলাহ্ভীতির শামিল। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
وَأَمَّا مَنْ خَافَ مَقَامَ رَبِّهِ وَنَهَى النَّفْسَ عَنِ الْهَوَى * فَإِنَّ الْجَنَّةَ هِيَ الْمَأْوَى ﴿النازعات: ٤٠-٤١
“আর যারা আল্লাহর সামনে দন্ডায়মান হওয়াকে ভয় করে এবং নিজের নফছকে কু-প্রবৃত্তির আনুগত্য থেকে ফিরে রাখে, জান্নাতই হল তাদের একমাত্র ঠিকানা।’’ -সূরা নাযিয়াতঃ ৪০-৪১
এছাড়াও ভ্রাতৃত্ব সংরক্ষণ, সুন্নতের অনুসরণ, পরকালীন জীবনের জন্য আমল, গীবত পরিহার, প্রতিশ্র“তি পালন, মন্দ কর্ম পরিহার, সুদ-ঘুষ ভক্ষণ না করে, সর্বদা হালাল ভক্ষণ করাও তাক্বওয়ার অন্তর্ভূক্ত।
তাক্বওয়া অর্জনের উপায়
ওহী-ভিত্তিক জ্ঞান
এ জ্ঞানে আল্লাহ তা‘আলার পূর্ণ পরিচয় যেমন তার ক্ষমতা, তার সম্মান, মর্যাদা, কুদরত, তার দয়া-অনুগ্রহ, সন্তুষ্টি, অসন্তুষ্টি, উদারতা, কঠোরতা ইত্যাদি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। আর তখনই অন্তরে আল্লাহর ভয় জাগ্রত হয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاء ﴿فاطر: ٢٨
“বান্দাদের মধ্য থেকে তারাই আল্লাহ তা‘আলাকে বেশি ভয় করে যারা জ্ঞানী।’’-সূরা ফাতিরঃ ২৮
আল্লাহ ভীরুদের সাহচর্য
মানুষ তার সঙ্গীর আদর্শে প্রভাবিত হয়। কাজেই পাড়া-প্রতিবেশী, খেলার সাথী, পড়ার সাথী, চাকুরী জীবনের সাথী, শিক্ষক-গুরুজন ইত্যাদি যদি সৎ ও আল্লাহভীরু হয় তাহলে তার মধ্যে অলক্ষ্যে তাক্বওয়ার গুণ সৃষ্টি হবে। তাই আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ اتَّقُواْ اللّهَ وَكُونُواْ مَعَ الصَّادِقِينَ ﴿التوبة: ١١٩
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহ তা‘আলাকে ভয় কর এবং সত্যবাদীদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে যাও।’’ -সূরা তাওবা- ১১৯
আল্লাহভীরু পিতামাতা
পিতা মাতা আল্লাহভীরু হলে সন্তানও অধিকাংশ ক্ষেত্রে আল্লাহভীরু হতে বাধ্য। তাই তো রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنهُ كَانَ يحدث قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَا مِنْ مَوْلُودٍ إِلَّا يُولَدُ عَلَى الْفِطْرَةِ فَأَبَوَاهُ يُهَوِّدَانِهِ أَوْ يُنَصِّرَانِهِ أَوْ يُمَجِّسَانِهِ كَمَا تُنْتَجُ الْبَهِيمَةُ بَهِيمَةً جَمْعَاءَ هَلْ تُحِسُّونَ فِيهَا مِنْ جَدْعَاءَ ثُمَّ يَقُول أَبُو هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ (فطْرَة الله الَّتِي فطر النَّاس عَلَيْهَا) الْآيَة) مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
“প্রত্যেক সন্তানই ফিতরতের উপর জন্ম গ্রহণ করে। অতঃপর তার পিতামাতা নিজেদের সংস্রব দ্বারা তাকে ইয়াহুদী, খৃষ্টান বা অগ্নি উপাসকে পরিণত করে। যেমন পশুরা পূর্ণাঙ্গ পশু শাবকই প্রসব করে, তাতে তোমরা কোন একটিকেও কান কাটা দেখ কি? (বরং পরে মানুষেই কান কেটে ও নাক ছেদিয়ে সেগুলোকে বিকলাঙ্গ করে দেয়)।’’ -বুখারী; মুসলিম; মিশকাতঃ ৯০
আল্লাহকে কর্মবিধায়ক মনে করা
وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ ﴿الحشر: ١٨
“তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং জেনে রেখ তিনি তোমাদের সকল কর্ম সম্পর্কে জ্ঞাত রয়েছেন।’’ -সূরা হাশরঃ ১৮
عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ أَفْضَلَ الْإِيمَانِ أَنْ تَعْلَمَ أَنَّ اللَّهَ مَعَكَ حَيْثُمَا كُنْتُ (المعجم الاوسط)
“রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেন, সর্বোত্তম ঈমান হল এ কথা বিশ্বাস করা যে, তুমি যেখানেই অবস্থান কর, আল্লাহ তোমার সাথে রয়েছেন (আল্লাহর কার্যক্ষমতা রয়েছে)।’’ – মুজামুল আওসাত লিত-তাবারানী
আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে চলা (ইবাদত করা)
দৈহিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে আল্লাহর আদেশ পালন ও নিষেধাজ্ঞা বর্জনে কাজে লাগাতে পারলে মনে আল্লাহর ভয় জাগ্রত হয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
يَا أَيُّهَا النَّاسُ اعْبُدُواْ رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ – وَالَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ
“হে মানব সমাজ! তোমরা তোমাদের পালনকর্তার ইবাদত কর, যিনি তোমাদিগকে এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদিগকে সৃষ্টি করেছেন। তাতে আশা করা যায়, তোমরা পরহিযগারী অর্জন করতে পারবে।’’ -সূরা বাকারাঃ ২১
উপসংহার
আমরা এতক্ষন পর্যন্ত তাক্বওয়ার গুরুত্ব, উপকারিতা ও ফায়দা সম্পর্কে আলোচনা করলাম। এছাড়াও কুরআন এবং হাদীসে তাক্বওয়ার আরো বহু পুরস্কারের কথা উল্লেখ আছে। তাই আমাদের সবারই তাক্বওয়া অর্জনের আপ্রাণ চেষ্টা করা উচিত। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে তাক্বওয়া অর্জনের তওফীক দিন। -আমিন!!
