গীবত, পরনিন্দা, পরচর্চা, চোগলখুরী, ও এর পরিণাম।
লেখক- মোঃ আকবর হোসাইন
সম্পাদনা- ইসমাইল বিন ইবরাহীম

১। ভূমিকাঃ
আল্লাহ পাকের জন্য সকল প্রসংশা ও গুণগান এবং সকল দরূদ ও ছালাম নবী পাক (সঃ) এর রওজা মোবারকে বর্ষিত হোক। আল্লাহ আমাদেরকে সমাজবদ্ধ হয়ে এ পৃথিবীতে বসবাস করার নিয়ম করে দিয়েছেন। আমরা যেন একে অপরের ভাল-মন্দ, সুখ-দুখ, রোগ-শোক ও আনন্দ-বেদনায় পাশে এসে দাঁড়াই। আমাদের হাত, পা ও মুখের দ্বারা যেন কেউ কষ্ট না পায়। আমরা যেন একে অন্যের দোষ-ত্র“টি খুঁজে বের করে তার পিছনে প্রচার না করি। প্রত্যেক মুসলমান ভাই ভাই হয়ে একটি ত্র“টিমুক্ত, শান্তিময় সমাজ গড়ে তুলি এটাই মহান আল¬াহ ও তাঁর রাসুলের মহান শিক্ষা। আজকের পাঠে আমরা কুরআন ও হাদীসের আলোকে গীবত / পরনিন্দা সম্পর্কে জানার ও বোঝার চেষ্টা করব ইনশায়া আল¬াহ।
২। গীবতের অর্থ ও সংগাঃ
অর্থঃ গীবত আরবী শব্দ , কুরআন ও হাদীসে এ শব্দটির ব্যাপক ব্যবহার দেখা যায়। শাব্দিক অর্থ দোষ -ত্র“টি বর্ণনা করা। অর্থাৎ কারো পিছনে তার দোষ-ত্র“টি বর্ণনা করা – তার সামনে করলে সে খুশী হত না বরং নারাজ হত। ইসলামী শরিয়তে রাসুল (সঃ) এর বাণীতে গীবতের সংগা এভাবে দেয়া হয়েছে ঃ
عن ابى هريرة ان رسول الله صلى الله عليه و سلم قال اتدرون ما لغيبة ؟ قالوا الله و رسوله اعلم قال ذكرك اخاك بما يكره قيل افرأيت ان كان فى اخى ما اقول قال ان كان فيه ما تقول اغتبته و ان لم يكن فيه ما تقول فقد بهته * (مسلم,مشكوة-৪০১৫)
সংগাঃ হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সঃ) বলেছেন ঃ তোমরা কি জান গীবত কাকে বলে? সাহাবাগণ উত্তরে বললেন, আল¬াহ ও তাঁর রাসুলই এ বিষয়ে ভাল জানেন। রাসুল (সঃ) বলেন- তোমার ভাইয়ের দোষ তার পিছনে বলা, যা তার সামনে বললে সে অপছন্দ করত তাই গীবত। সাহাবাগণ বললেন, আমাদের সেই ভাইয়ের মধ্যে যদি সেই দোষ থাকে যা আমরা বলছি তাহলেও কি গীবত করা হবে? উত্তরে রাসুল (সঃ) বলেন, যা তোমরা তার পিছনে বলছ তা যদি তার মধ্যে থাকে তাহলে তোমরা তার গীবত করলে, আর যদি তা তার মধ্যে তা না থাকে যা তোমরা বলছ, তাহলে তোমরা তার উপরে মিথ্যা অপবাদ দিলে। (মিশকাত-৪৬১৫)
৩। গীবতের প্রকারভেদঃ
(১) মুসলমানের গীবতঃ
মুসলমান হয়ে আর এক মুসলমানের গীবত করা হারাম। প্রসংগে মহান আলাহ কালামে পাকে এরশাদ করেন ঃ
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اجْتَنِبُوا كَثِيرًا مِّنَ الظَّنِّ إِنَّ بَعْضَ الظَّنِّ إِثْمٌ وَلا تَجَسَّسُوا وَلا يَغْتَب بَّعْضُكُم بَعْضًا أَيُحِبُّ أَحَدُكُمْ أَن يَأْكُلَ لَحْمَ أَخِيهِ مَيْتًا فَكَرِهْتُمُوهُ وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ تَوَّابٌ رَّحِيمٌ * (حجورات-১২)
হে মুমিনগণ! তোমরা অধিকাংশ অনুমান বা ধারণা করা হতে দূরে থাক, কারণ অনুমান করা বেশীর ভাগক্ষেত্রে পাপ এবং তোমরা একে অপরের গোপনীয় বিষয় অনুসন্ধান করো না এবং একে অপরের পিছনে নিন্দা বা গীবত করো না। তোমাদের মধ্যে কি কেউ তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে চাইবে? বস্তুত তোমরা তো একে ঘৃণাই করবে। তোমরা আল¬াহকে ভয় কর। আল¬াহ তওবা গ্রহণকারী, পরম দয়ালু। (হুজুরাত-১২)
(২) অমুসলিম নাগরিকের গীবত করাঃ
যে সব অমুসলিম নাগরিক ইসলামী রাষ্ট্রে মুসলমানদের অধিনস্ত হয়ে, কর-খাজনা দিয়ে এবং রাষ্ট্রের আইন-কানুন মেনে বসবাস করছে তাদের গীবত করাও অনুরূপ হারাম।
(৩) হরবী বা শত্র“ রাষ্ট্রে অমুসলিমদের গীবত করাঃ
ইসলামী আইন শাস্ত্র মতে যে সব অমুসলিম মুসলমানদের অধিনস্ত নয় তাদের গীবত করা বৈধ বা জায়েজ।
(৪) মৃত মুসলমানের গীবত করাঃ
জীবিত মুসলমানের গীবত করা যেমন হারাম, মৃত মুসলমানের গীবত করাও অনুরূপ হারাম। এ প্রসংগে মহানবী (সঃ) বলেন, তোমাদের কেউ যখন মারা যায়, তখন তাকে ছাড়। অর্থাৎ মৃত ব্যক্তির মন্দ বলা, গালি দেয়া ও তার দোষ-ত্র“টি বলা থেকে বিরত থাক। (আবু দাউদ)
৪। গীবতের ধরণঃ
মানুষ নানাভাবে মানুষের গীবত করে থাকে। এখানে সংক্ষেপে গীবতের কিছু ধরণের উলে¬খ করছিঃ
(১) দৈহিক কাঠামোর গীবত করা, (২) পোষাাক-পরিচ্ছদের গীবত, (৩) বংশীয় ধারা তুলে গীবত করা,(৪) অভ্যাস,আচার-আচরণের, (৫) ইবাদতে কম-বেশীর গীবত, (৬) পাপাচারের কথা তুলে গীবত, (৭) সরাসরি/অনুকরণ জনিত, (৮) ইশারা-ইঙ্গিতে গীবত করা, (৯) উপহাস মূলক গীবত করা,(১০) শ্রবণ দ্বারা কানের গীবত, (১১) ঘৃণা দ্বারা অন্তরের গীবত, (১২) অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ প্রসংগে গীবত,(১৩) লেখনীর দ্বারা গীবত করা,(১৪) সভা-সমিতিতে দল বা বিপক্ষের গীবত করা ইত্যাদি।
৫। গীবত সম্পর্কে কুরআনের বাণীঃ
لاَّ يُحِبُّ اللَّهُ الْجَهْرَ بِالسُّوءِ مِنَ الْقَوْلِ إِلاَّ مَن ظُلِمَ وَكَانَ اللَّهُ سَمِيعًا عَلِيمًا * إِن تُبْدُواْ خَيْرًا أَوْ تُخْفُوهُ أَوْ تَعْفُواْ عَن سُوءٍ فَإِنَّ اللَّهَ كَانَ عَفُوًّا قَدِيرًا * (نساء-১৪৮.১৪৯)
মন্দ কথার প্রচারনা আল¬াহ পছন্দ করেন না, তবে যার উপর যুলুম-অত্যাচার করা হয়েছে সে ব্যতীত। আর আল¬াহ সব শ্রোতা, সর্বজ্ঞ। তোমরা সৎকাজ প্রকাশ্যে করলে অথবা গোপনে করলে কিংবা দোষ ক্ষমা করলে তবে আল¬াহও দোষ মোচনকারী, শক্তিমান। (নিসা-১৪৮,১৫৯)
وَيْلٌ لِّكُلِّ هُمَزَةٍ لُّمَزَةٍ * (همزة- ১)
দূর্ভোগ প্রত্যেকের , যারা পশ্চাতে ও সম্মুখে লোকের নিন্দা করে। (হুমাযা-১)
وَلا تُطِعْ كُلَّ حَلاَّفٍ مَّهِينٍ * هَمَّازٍ مَّشَّاء بِنَمِيمٍ * مَنَّاعٍ لِّلْخَيْرِ مُعْتَدٍ أَثِيمٍ * عُتُلٍّ بَعْدَ ذَلِكَ زَنِيمٍ * (قلم-১০.১১.১২.১৩)
তোমরা অনুসরণ করো না তার যে কথায় কথায় কসম করে, যে লাঞ্চিত। পশ্চাতে নিন্দাকারী, যে একের কথা অন্যের কাছে লাগিয়ে বেড়ায়। (কলাম-১০-১৩)
لَئِن لَّمْ يَنتَهِ الْمُنَافِقُونَ وَالَّذِينَ فِي قُلُوبِهِم مَّرَضٌ وَالْمُرْجِفُونَ فِي الْمَدِينَةِ لَنُغْرِيَنَّكَ بِهِمْ ثُمَّ لا يُجَاوِرُونَكَ فِيهَا إِلاَّ قَلِيلا * (احزاب-৬০)
অর্থঃ মুনাফিকরা এবং যাদের অন্তরে ব্যধি আছে এবং যারা নগরে গুজব রটনা করে, তারা বিরত না হলে আমি নিশ্চয়ই তাদের বিরুদ্ধে তোমাকে প্রবল করব। এরপর এ নগরীতে তোমার প্রতিবেশীরূপে ওরা স্বল্প সময়ই থাকবে। (আহযাব-৬০)
مَا سَلَكَكُمْ فِي سَقَرَ * قَالُوا لَمْ نَكُ مِنَ الْمُصَلِّينَ * وَلَمْ نَكُ نُطْعِمُ الْمِسْكِينَ * وَكُنَّا نَخُوضُ مَعَ الْخَائِضِينَ * (مدثر৪৫-৪১)
অর্থঃ পাপীদেরকে যখন ছাকার নামক জাহান্নামের দারপ্রান্তে উপস্থিত করা হবে তখন ফেরেশতারা বলবে কোন পাপের কারনে আজ তোমাদেরকে এখানে আনা হয়েছে? তখন তারা উত্তরে বলবে, আমরা নামাজী ছিলাম না, আমরা মিসকিনদেরকে খাদ্য দান করতাম না এবং আমরা সমালোচক দের সাথে মিলে সমালোচনা করতাম। অর্থাৎ গীবতকারীদের সাথে মিলে গীবত করতাম। তাই আজ আমাদের এই পরিণতি। (মুদ্দাস্সির-৪০,৪৫)
ظَهَرَ الْفَسَادُ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ بِمَا كَسَبَتْ أَيْدِي النَّاسِ لِيُذِيقَهُم بَعْضَ الَّذِي عَمِلُوا لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ * (روم-৪১)
পৃথিবীর স্থল ও জলভাগে মানুষের নিজ হাতের কর্মের দ্বারা ফেৎনা-ফাসাদ ছড়িয়ে পড়ে। তাদের কর্মের কিছু ফল আমি আস্বাদন করাই এ জন্য যে তারা প্রত্যাবর্তন করবে। (রুম-৪১)
৬। গীবত সম্পর্কে মহানবী (সঃ) এর বাণীঃ
# চোগলখোর জান্নাতে যাবে না ঃ
عن هزيفة قال سمعت رسول الله صلى الله عليه و سلم يقول لايدخل الجنة قتات / نمام * (متفق عليه-مشكوة-৪৬১০)
(১) হযরত হুযায়ফা (রাঃ) বলেন, আমি রাসুল (সঃ)কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন- চোগলখোর জান্নাতে প্রবেশ করবে না। (বুখারী,মুসলিম,মিশকাত-৪৬১০)
# দুটি স্থানের জামানতঃ
عن سهل بن سعد قال قال رسول الله صلى الله عليه و سلم من يضمن لى بين ما لحييه وما بين رجليه اضمن له الجنة * بخارى-مشكوة-৪৫৯৯)
(২) হযরত সাহাল ইবনে সায়াদ (রাঃ) হতে বর্নিত, তিনি বলেন, রাসুল (সঃ) বলেছেন- যে ব্যক্তি আমাকে তার দুই চোয়ালের মাঝখানে যা আছে এবং তার দুই রানের মাঝখানে যা আছে এর জামানত দিবে আমি তাকে জান্নাতের জামানত দিব। (বুখারী,মিশকাত-৪৫৯৯)
# দু’মুখো মানুষঃ
عن ابى هريرة قال قال رسول الله صلى الله عليه و سلم تجدون شرّ الناس يوم القيمة ذالوجهين الذى يأتى هئلاء بوجوه و هئلاء بوجوه * (متفق عليه-مشكوة-৪৬০৯)
(৩) হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সঃ) বলেছেন- কিয়ামতের দিন তুমি ঐ ব্যক্তিকে নিকৃষ্ট মানুষ হিসাবে দেখতে পাবে, যার দুই মুখ। সে একদলের কাছে এক মুখে এক রকম কথা বলে এবং অন্যদলের কাছে গিয়ে অন্য মুখে অন্য রকম কথা বলে। (বুখারী,মুসলিম,মিশকাত-৪৬০৯)
# যেনার চেয়ে বড় অপরাধঃ
قال رسول الله صلى الله عليه و سلم الغيبة اشدّ من الزنا ….. صاحب الزنا يتوب و صاحب الغيبة ليس له توبة * (بيهقى-مضكوة-৪৬৫৭)
(৪) হযরত আবু সাঈদ ও হযরত জাবির (রাঃ) হতে বর্লিত, তিনি বলেন, রাসুল (সঃ) বলেছেন- গীবত করা যেনা-ব্যভিচার করার চেয়ে গুরুতর অপরাধ। সাহাবাগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল-াহর রাসুল! কিভাবে গীবত করা যেনা করার চেয়ে গুরুতর অপরাধ হয়? রাসুল (সঃ) উত্তরে বলেন- যেনাকারী তার অপরাধের জন্য আল¬াহর কাছে তওবা করার সুযোগ পায়, আর আল¬াহ তাকে মাফ করে দেন। কিন্তু গীবতকারী তওবা করলেও আল¬াহ তাকে ততক্ষন পর্যন্ত মাফ করেন না, যতক্ষন না যার গীবত করা হয় তার কাছে মাফ চেয়ে ক্ষমা না পাওয়া যায়। (বায়হাকী,মিশকাত-৪৬৫৭)
# চুপ থাকা উত্তমঃ
عن عمران بن حصين انّ رسول الله صلى الله عليه و سلم قال مقام الرجل بالصمت افضل من عبادة ستين سنة * (بيهقى-مشكوة-৪৬৪৯)
(৫) হযরত ইমরান ইবনে হুসাইন (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সঃ) বলেন- অবস্থাভেদে মানুষের চুপ থাকা ৬০ বছরের ইবাদতের চেয়ে উত্তম। (বায়হাকী,মিশকাত-৪৬৪৯)
# ৬ টি জিনিসের জামানতে জান্নাত লাভঃ
انّ النبىّ صلى الله عليه و سلم قال اضمن لى ستا من انفسكم اضمن لكم الجنة اصدقوا اذا حدّثتم و اوفوا اذا وعدتم و ادّوا اذا اتمنتم و احفظوا فروجكم و غضوا ابصاركم و كفوا ايديكم * (بيهقى-مشكوة-৪৬৫৪)
(৬) রাসুল (সঃ) বলেন- তোমরা আমাকে ৬ টি জিনিসের জামানত দিলে আমি তোমাদেরকে জান্নাতের জামানত দিব, ১. যখন কথা বল সত্য বল, ২.যখন ওয়াদা কর পূরণ কর, ৩. যখন আমানত আদায় কর, ৪. গুপ্তাংগের হিফাযত কর, ৫. চোখের দৃষ্টি অবনত রাখ, ৬. হাত গুটিয়ে রাখ। (বায়হাকী,মিশকাত-৪৬৫৪)
# মুখে মাটি দাওঃ
عن المقداد بن الاسواد قال قال رسول الله صلى الله عليه و سلم اذا رأيتم المدّاحين فاحثوا فى وجوههم التراب * (مسلم-مشكوة-৪৬১৩)
(৭) হযরত মিকদাদ ইবনে আসওয়াদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সঃ) বলেন- যখন কোন প্রশংসাকারীকে তোমার সামনে প্রশংসা করতে দেখবে তখন তার মুখের মধ্যে মাটি পুরে দিবে। (মুসলিম,মিশকাত-৪৬১৩)
# আল্লাহর রাগ ওঠেঃ
عن انس قال قال رسول الله صلى الله عليه و سلم اذا مدح الفاسق غضب الربّ تعالى واهتز له العرش * (بيهقى-مشكوة-৪৬৪৪)
(৮) হযরত আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সঃ) বলেন- যখন কোন ফাসেক বা পাপী লোকের প্রশংসা করা হয় তখন আল¬াহপাক রাগান্বিত হন এবং আল¬াহর আরশ কেপে ওঠে। (বায়হাকী,মিশকাত-৪৬৪৪)
# জিহবাকে ভয় করঃ
عن سفيان بن عبد الله الثقفى قال قلت يا رسول الله صلى الله عليه و سلم ما اخوف ما تخاف علىّ قال فاخذ بلسان نفسه و قال هذا * (ترمذى-مشكوة-৪৬২৮)
(৯) হযরত সুফিয়ান ইবনে আব্দুল¬াহ সাকাফী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলকে বললাম, ইয়া রাসুলাল¬াহ! আমি কাকে সবচেয়ে বেশী ভয় করব? বা আপনি আমাদের কোন জিনিসকে সবচেয়ে বেশী ভয় করেন? তিনি নিজের জিহবাকে হাত দিয়ে ধরলেন এবং বললেন, এ টাকে। (তিরমিজী, মিশকাত-৪৬২৮)
# গীবত শ্রবণ করা নিষেধঃ
عن عبد الله بن عمر قال نهى رسول الله صلى الله عليه و سلم عن الغيبة و استماع الغيبة * (سيرات احمدية)
(১০) হযরত ইবনে ওমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সঃ) গীবত করা ও গীবত শ্রবণ করা থেকে নিষেধ করেছেন। (সিরাতে আহমাদিয়া)
# দোষ গোপন রাখাঃ
قال رسول الله صلى الله عليه و سلم من ستر عورة اخيه المسلم ستره الله عورته يوم القيمة و من كشف عورة اخيه المئومن كشف الله عورته * (غيبة و برنندة)
(১১) রাসুল (সঃ) বলেন- যে ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের দোষ গোপন রাখবে, কিয়ামতের দিন আল¬াহ তার দোষ গোপন রাখবেন। যে তার মুমিন ভাইয়ের দোষ প্রচার করবে, কিয়ামতের দিন আল¬াহও তার দোষ প্রচার করবেন।
# অন্যরা নিরাপদঃ
قال رسول الله صلى الله عليه و سلم المسلم من سلم المسلمون من لسانه و يده * (غيبة و برنندة)
(১২) রাসুল (সঃ) বলেন- সে প্রকৃত মুসলমান যার হাত ও মুখ হতে অন্য মুসলমান নিরাপদ।
# কবর আজাবঃ
قال الامام الغزالى (رح) عذاب القبر ثلث من النميمة و ثلث من البول و ثلث من الغيبة * (غيبة و برنندة)
(১৩) ইমাম গাজ্জালী (রঃ) বলেন- এক তৃতীয়াংশ কবর আজাব হবে চোগলখুরীর কারণে, এক তৃতীয়াংশ কবর আজাব হবে পেশাব থেকে অপবিত্র থাকার কারণে এবং এক তৃতীয়াংশ কবর আজাব হবে গীবতের কারণে।
# গীবত কুকুরের স্বভাবঃ
قال الزينل عابدين اياك الغيبة و فانها اِدام كلاب الناس * (قيميئى سعدت)
(১৪) হযরত যয়নাল আবেদীন (রাঃ) বলেন- তুমি গীবত থেকে বাঁচ। কেননা গীবত সে সব লোকের তরকারী যারা কুকুর স্বভাবের। (কিমিয়ায় সাদাত)
# গীবত পাপীদের মেহমানদারী:
قال ابو عمران (رح) الغيبة ضيافة الفساق و مراتع الناس و ادام كلاب الناس و مزائل الاتقياء * (غيبة و برنندة)
(১৫) হযরত আবু ইমরান (রহঃ) বলেন- গীবত ফাসেক/পাপীদের মেহমানদারী, নারীকুলের চারণভূমি, কুকুর স্বভাবের লোকের তরকারী এবং আল্লাহভীরুদের দূরত্ব বজায় রাখার ক্ষেত্র।
# গীবতকারীর রূপ পরিবর্তনঃ
قال اصم (رح) المغتاب و النمام قرد اهل النار و الكذاب كلب اهل النار و الحاسد خنزير اهل النار * (غيبة و برنندة)
১৬. হযরত আসাম (রহঃ) বলেন- গীবতকারী ও চোগলখোর দোযখে বানরের রূপে রূপান্তরিত হবে, মিথ্যাবাদী দোযখে কুকুরের রূপ লাভ করবে এবং হিংসা-বিদ্বেষকারী শুকরের রূপ লাভ করবে
# গীবতকারীর দোয়া কবুল হয় নাঃ
قال ابو ليس شمرقندى (رح) ثلثة لايستجاب دعوتهم اكل الحرام و مكثا الغيبة و من كان فى قلبه بخل او حسد للمسلمين * (غيبة و برنندة)
১৭. হযরত আবু লাইস শমরকন্দী (রহ) বলেন- তিন ব্যক্তির দোয়া কবুল হয় না, ১. হারাম খাদ্য গ্রহণকারী, ২. গীবতকারী, ৩. যে মুসলমানের সাথে হিংসা পোষণ করে এবং কৃপণতা করে।
# নেকী কমে যায়ঃ
قال ابو امامة الباهلى ان الرجل ليعطى كتابه منشرا فيقول يا ربّ فاين حسنا تى كذا وكذا عملتها ليست فى صحيفتى فيقول له محيت باغتيابك الناس * (غيبة و برنندة)
১৮. হযরত আবু উমামা (রাঃ) বলেন- কিয়ামতের দিন মানুষ নিজ কৃতকর্মের আমলনামা হাতে পাবে। আমলনামা পড়ার পর তারা বলবে, হে প্রতিপালক! আমি দুনিয়ায় অমুক অমুক নেকীর কাজ করেছিলাম, আমার আমলনামায় সেগুলো নেই কেন? ঊত্তরে আল¬াহ বলবেন, তুমি যে সব মানুষের গীবত করতে তোমার নেকীগুলো সেই সব লোকের আমলনামায় দিয়ে দেয়া হয়েছে এবং তোমার আমলনামা থেকে মুছে ফেলা হয়েছে।
# গীবত হারামঃ
قال النبىّ صلى الله عليه و سلم حرم من المسلم دمه و عرضه و ان يظن به ظن السوء * (غيبة و برنندة)
১৯। রাসুল (সঃ) বলেন- এক মুসলমানের উপরে অন্য মুসলমানের রক্ত প্রবাতি করা ও সম্মান হানী করা যেমন হারাম, অনুরূপ একজন অন্যজনের গীবত করা ও খারাপ ধারণা পোষণ করাও হারাম।
# গীবতের কাফফারা ঃ
قال رسول الله صلى الله عليه و سلم كفارة الغيبة ان تستغفر لمن اغتبته * (بيهقى)
২০। রাসুল (সঃ) বলেন- গীবতের কাফফারা হল, যার গীবত করা হয়েছে তার জন্য আল¬াহর কাছে ইস্তিগফার করা। (বায়হাকী)
قال عمر فاروق من ذكر خطيئة فوجد قلبه محبة منه ام الكتاب * (غيبة و برنندة)
২১। হযরত ওমার ফারুক (রাঃ) বলেন- যে ব্যক্তি গোনাহের কথা স্মরণ করে মনে আল্লাহর ভয় পোষণ করে , তার আমলনামা হতে সব গোনাহ মুছে যায়।
قال الحسن البصرى (رح) يكفيه الاستغفار دون الاستحلال * (غيبة و برنندة)
২২। হযরত হাসান বসরী (রঃ) বলেন- গীবতকারীর জন্য তওবা ইস্তেগফার আবশ্যক। যার গীবত করা হয়েছে তার নিকট থেকে মাফ নেওয়ার দরকার হবে না।
قال عبد الله ابن المبارك (رح) اذا اغتاب رجل رجلا فلا يخبر به و لكن يستغفر الله. * (غيبة و برنندة)
২৩। হযরত আব্দুল¬াহ ইবনুল মুবারক (রঃ) বলেন- কারো গীবত করা হলে, যার গীবত করা হয়েছে তাকে না জানিয়ে বরং আল্লাহর কাছে তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে।
قال المجاهد (رح) كفارة اكلك اخيك ان تثنى عليه بخير و تدعوه * (غيبة و برنندة)
২৪। হযরত মুজাহিদ (রঃ) বলেন- আপন ভাইয়ের মাংশ ভক্ষন অর্থাৎ গীবত করার কাফফারা হল, যার গীবত করা হয়েছে তার প্রসংশা করবে, তার কল্যাণ ও বরকতের জন্য দোয়া করবে।
قال الزينل عابدين اذا خرج البيت فى الصباح قال اللهم انى اتصدق اليوم بعرض لمن يغتابنى * (غيبة و برنندة)
২৫। হযরত জয়নাল আবেদীন (রাঃ) বলেন- তিনি সকালে ঘর হতে বের হবার সময় বলতেন, হে আল¬াহ! আজ যে আমার গীবত করবে, তাকে আমি আমার মর্যাদা সদকা করে দিলাম।
# অন্যায় প্রতিরোধ ঃ
قال رسول الله صلى الله عليه و سلم من ذبّ عن عرض اخيه بالغيبة حقا على الله ان يعتقه من النار * (الترغيب)
২৬। রাসুল (সঃ) বলেন- যে ব্যক্তি মুসলমানের সম্মান বিনষ্ট করা, ইজ্জতহানী হতে লোকদেরকে বাধা দেবে, তাকে জাহান্নাম হতে মুক্ত করে দেয়া আল্লাহর উপর ওয়াজিব হয়ে যায়। (আত তারগীব)
قال رسول الله صلى الله عليه و سلم من رأى منكم منكرا فليغيره بيده فان لم يستطع فبلسانه و ان لم يستطع فبقلبه و ذلك اضعف الايمان * (مسلم)
২৭। রাসুল (সঃ) বলেন- যখন কোন ব্যক্তি কোন অন্যায় কাজ দেখবে, তখন তার উচিত স্বহস্তে তা বাধা দেয়া, যদি তাতে সে অক্ষম হয় তাহলে সে মুখের দ্বারা তা বাধা দেবে, যদি সে এতেও অক্ষম হয় তাহলে সে অন্তরে ঘৃণা পোষণ করবে। আর এটা হল দূর্বল ঈমানের পরিচায়ক। ( মুসলিম )
৭। গীবতের পার্থিব পরিণামঃ
(১) গীবতকারীকে কেউ বিশ্বাস করে না, পছন্দ করে না, ভালবাসে না, মূল্যায়ন করে না এবং সবাই তাকে ঘৃণার চোখে দেখে।
(২) পারবারে বড়রা গীবত করলে তা ছোটদের মাঝে সংক্রমিত হয় এবং বাচ্চাদের মাধ্রমে তা প্রতিবেশী ও আত্মীয়দের বাচ্চাদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে।
(৩) প্রতিবেশী ও শিশুর বন্ধুমহলে পরনিন্দার কারণে ঝগড়া-বিবাদ, মারামারি ও শত্র“তার সৃষ্টি হয়। যার শেষ পরিনতিতে বড়দের মাঝে এসে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে পপাস্পরিক সম্পর্ক নষ্ট হয়। হিংসা-বিদ্বেষ বিরাজ করে।
(৪) পরনিন্দার ফলে পরিবার ও সমাজে বিঃশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় এবং সমাজে অশান্তি বিরাজ করে।
(৫) গীবত করা এক ধরণের রোগবিশেষঃ
قال عمر فاروق عليك بذكرك الله فانه شفاء واياك الغيبة و ذكر الناس فانه داء * (غيبة و برنندة)
২৮। হযরত ওমর ফারুক (রাঃ) বলেন, আল¬াহর জিকির করা রোগের ঔষধ স্বরূপ, গীবত করা রোগ বিশেষ। সুতরাং গীবত নামক রোগ হতে দূরে থাক।
(৭) গীবতের ফলে বিপদ ও বালা-মুসিবত নাযিল হয়। নিন্দাকারী অপমানিত ও লাঞ্চিত হয়।
(৮) গীবতকারী মুনাফিক ও ফাসিক হয়।
قال الله تعالى ان المنافقين فى الدرك الاسفل من النار * (القران)
২৯। নিশ্চয়ই মুনাফিকরা জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে অবস্থান করবে।
قال رسول الله صلى الله عليه و سلم اية المنافق ثلاثة اذا حدّث كذب و اذا وعد اخلف و اذا اوتمن خان * (الحديث)
রাসুল (সঃ) বলেন- মুনাফিকের আলামত তিনটি ১. কথা বললে মিথ্যা বলে, ২. ওয়াদা করলে খেলাফ করে, ৩. আমানত রাখলে খেয়ানত করে।
(৯) গীবতকারী বাঘের চেয়েও হিংস্র ও নিকৃষ্ট। কারন বাঘ আপন ভাইয়ের মাংশ খায় না, অথচ গীবতকারী আপন মৃত ভাইয়ের মাংশ ভক্ষনকারী।
(১০) গীবত করা অসৎচরিত্রের প্রমান দেয়, পক্ষান্তরে গীবত ত্যাগকারী সৎচরিত্রের পরিচয় দেয়।
(১১) গীবত ঈমানকে ন্যাড়া করে দেয়ঃ
قال رسول الله صلى الله عليه و سلم الغيبة و النميمة تمحطان الايمان * (الحديث)
৩০। রাসুল (সঃ) বলেন- গীবত ও চোগলখুরী ঈমানকে ছিলে ন্যাড়া করে দেয়।
(১২) ইবাদত বেশী করার চেয়ে গীবত ত্যাগ করা উত্তম।
(১৩) রোজা অবস্থায় গীবত করলে রোজা মাকরুহ হয়ে যায়।
(১৪) গীবতকারীর দোয়া কবুল হয় না এবং আল¬াহর রহমত পায় না।
(১৫) গীবত ঈর্ষার জন্ম দেয়, আর ঈর্ষা পূণ্যকে খেয়ে ছাপ করে দেয়।
قال رسول الله صلى الله عليه و سلم الحسد تأكل الحسنات كما تأكل الحطب فى النار * (الحديث)
৩১। রাসুল (সঃ) বলেন, ঈর্ষা-হিংসা-বিদ্বেষ পূণ্যকে খেয়ে ছাপ করে দেয়, যেমন আগুন কাঠকে খেয়ে ছাপ করে দেয়।
৮। গীবতের পরকালীন পরিণামঃ
(১) গীবতকারীর বিপক্ষে কিয়ামতের দিন দাবীদারদের অধিকারের ফরিয়াদ পূরণ করা হবে।
(২) বিচার দিবসে গীবতকারী লজ্জায় পতিত হবে।
(৩) কিয়ামতের দিনে গীবতকৃতের ও নিজ শরীরের গোশত ভক্ষন করতে দেয়া হবে।
(৪) বিচারদিবসে গীবতকারী নিজ হাতের নখ দিয়ে নিজের শরীরের গোশত আঁচড়াতে থাকবে।
(৫) জাহান্নামে পতিত হওয়ার পর গীবতকারীর খুজলী রোগ হবে।
(৬) গীবতকারী সবার আগে জাহান্নামে যাবে এবং সবার শেষে বেহেশতে যাবে।
(৭) পরকালে গীবতকারীকে বানরে রূপান্তর করা হবে।
(৮) এক তৃতীয়াংশ কবর আযাব গীবতের কারণে হবে।
(৯) কিয়ামতের দিন ৪র্থ মঞ্জিলে গীবত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে এবং সেখানে ১০০০ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
৯। গীবত সৃষ্টির কারণ ও প্রতিরোধের উপায়ঃ
قال رسول الله صلى الله عليه و سلم من اغتيب عنده اخو المسلم فلم ينصره و هو يستطيع نصره ادركه اتمه الله فى الدنيا و الاخرة * (سيرات احمدية)
৩২। রাসুল (সঃ) বলেন- শক্তি থাকা সত্বেও যদি গীবত প্রতিরোধ করা না হয়, তাহলে তার জন্য ইহকাল ও পরকালে শাস্তির ব্যবস্থা থাকবে। ( সিরাতে আহমাদিয়া)
(১) রাগের কারণে মানুষ গীবত করে, রাগ দমন করে গীবত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
(২) অসাদাচরণের দ্বারা গীবত সৃষ্টি হয়। সদাচরণ দ্বারা গীবত প্রতিরোধ করা সম্ভব।
(৩) অশ¬ীলভাষা, গালি-গালাজ দ্বারা ক্ষিপ্ত হয়ে মানুষ গীবত করে। অশালীনভাষা ত্যাগ করে গীবত প্রতিরোধ করা যায়।
(৪) বিবাদমান দু‘পক্ষের মাধ্যমে গীবত হয়ে থাকে। আলোচনা করে বিবাদ মিটিয়ে ফেলে গীবত প্রতিরোধ করা যায়।
(৫) বংশ গৌরবের কারণে গীবত হয়। বংশ গৌরব থেকে বিরত থাকলে গীবত প্রতিরোধ করা যাবে।
يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُم مِّن ذَكَرٍ وَأُنثَى وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِندَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ * (حجرات-১৩)
৩৩। হে মানব, আমি তোমাদেরকে এক পুরুষ ও এক নারী থেকে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি, যাতে তোমরা পরস্পরে পরিচিত হও। নিশ্চয় আলাহ্র কাছে সে-ই সর্বাধিক সম্ভ্রান্ত যে সর্বাধিক পরহেযগার। নিশ্চয় আলাহ্ সর্বজ্ঞ, সবকিছুর খবর রাখেন।
(৬) রূপ-সৌন্দর্যের কারণে গীবত হয়ে থাকে। আল¬াহর কাছে রূপ-সৌন্দর্যের কোন মূল্য নেই।
(৭) জ্ঞান ও শিক্ষার অহংকারে মানুষ গীবত করে। আমলহীন জ্ঞান ও শিক্ষার কোন মূল্য নেই।
(৮) আবেদ লোক তার ইবাদতের কারণে নিজকে উত্তম মনে করে অন্যের গীবত করে থাকে। আবেদের ইবাদত আদৌও কবুল হয়েছে কি না তার কি গ্যারান্টি আছে? অন্যকে বড় ও উত্তম মনে কর।
(৯) একসাথে আড্ডায় বসে তাল মিলাতে গিয়ে গীবত করা হয়। এমন মজলিস ত্যাগ তরুন।
(১০) বক্তা, রাজনীতিবীদ, পীর-মাশায়েখগণ, ডাক্তার, আইনজীবি ইত্যাদি পেশার লোক নিজেকে বড় ও সঠিক প্রমান করতে গিয়ে অন্যের গীবত করে থাকেন। এদের বক্তব্যে শ্রোতারাও গীবতে শামিল হয়ে পড়ে। এসব লোকদের সংগ ত্যাগ করে গীবত করা ও শোনা থেকে বিরত থাকুন।
১০। উপসংহার ঃ গীবত একটি সামাজিক সংক্রমক ব্যধি। ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ থেকে যদি এ ব্যধি নির্মুল করা না যায় তাহলে এর ফলে আমাদের সমাজে আপরাধ প্রবনতা আরও বেড়ে যাবে।